সব জিনিসের দাম বাড়লেও বাড়েনি আয় – কান্নাজড়িত কন্ঠে এক বাবার বুক ফাটা হাহাকার

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একজন বাবার করুন একটি স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে, দ্রব্য মূল্যর ঊর্ধ্ব গতির কারণে বাবা আসহায়ত্ব আসলেই হ্নদয় বিদায়ক, যা পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো:-

ফেরি করে কাপড় বিক্রেতা টুনু সাহেবের ছোট ছেলের আবদার পূরন করতে সৈয়দপুর শহরের রেল বাজার মাংসের দোকানে যান মাংস কেনার জন্য। সেখানে মাংসের কেজি ৬৫০/- (ছয় শত পঞ্চাশ টাকা)

শুনে ফিরে যান বড় একটা মাছ কিনবেন বলে। সেখানেও মাছের দাম ২৮০-৬২০ টাকা পর্যন্ত কেজি শুনে মাথায় হাত পড়ে তার। অবশেষে মুরগির দোকানে গিয়ে ১৬০টাকা কেজি দরে ২ কেজি ব্রয়লার মুরগি নেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার টুনু সাহেবের হতাশাগ্রস্থ চেহারা দেখে প্রশ্ন করা হয়, মাছ ও গরুর মাংসের দোকান ঘুরে ব্রয়লার মুরগি কিনলেন কেন? এর জবাবে তিনি বলেন আমার ছোট ছেলেটা দীর্ঘদিন

থেকে গরুর মাংস খেতে চাইছে কিন্তু পকেটে যা আছে তা দিয়ে আধাকেজি গরুর মাংস কিনলে অন্যান্য খরচ করতে পারবেন না। তাছাড়া আধাকেজি গরুর মাংস একবেলাতেই শেষ হয়ে যাবে।

তাই বাধ্য হয়েই ব্রয়লার মুরগির মাংস কিনলাম। ছেলেটার আবদার আজও পুরন করতে পারলাম না। টুনু সাহেব বলেন বাই সাইকেলে ফেরি করে যেসব কাপড় বিক্রি করি তাতে প্রতি মাসে ১০-১২ হাজার টাকা লাভ হয়। পরিবারের সদস্য ৬ জন। এতে কুলাতেই পারি না। বড়রা আমার উপার্যন জানলেও ছোট ছেলেটা তা বোঝেনা। ছোট মানুষতো তাই তার আবদার গরুর মাংস খাওয়ার। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, বিশ্বাস করুর সাংবাদিক সাহেব প্রায় ৩-৪ মাস হবে বাচ্চাদের কোন আবদারই পূরন করতে পারছি না। আল্লাহ পাকের মেহেরবানীতেই কোন রকমে ডাল-ভাত খেয়ে বেচে আছি।

নিত্য প্রয়োজনিয় পন্যের দাম বাড়ায় টুনু সাহেবের মতো স্বল্প আয়ের মানুষজন বাজারে গিয়ে সওদা কিনতে নানা ধরনের হিসাব নিকাশ করছেন। দ্রব্যমূল্যে উর্দ্ধগতি জানতে শহরের রেলওয়ে বাজার ও গেটবাজার গিয়ে দেখা গেছে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০টাকা, মাছ ২৮০-৬২০টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-১৮০ টাকা , শিংমাছ ৭০০টাকা, মাগুর মাছ ৮০০-১২০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৬০টাকা, সোনালী মুরগি ২৮০টাকা ও দেশী মুরগি ৪৮০টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংস বিক্রেতারা বলছেন করোনার সময় বিক্রি তলানিতে নেমেছিল এর পর মাত্র দুই মাস ভালেভাবে কেনাবেচা হয়েছে কিন্তু গরু, মাছ ও মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি আবার কমে নেমেছে অর্ধেকে। যেসব ক্রেতারা ৫ কেজি মাংস কিনতেন তারা কিনছেন মাত্র ১ কেজি মাংস। আর যারা ২ কেজি কিনতেন তারা কিনছেন মাত্র আধাকেজি। আর ১ কেজির ক্রেতারা মাংসের দোকানের রাস্তাই ভুলেগেছেন। একই কথা বলছেন মাছ বিক্রেতারাও। ব্যবসায়ীরা আরো বলছেন আসন্ন ঈদুল আযহা এ শতকরা ২৫ ভাগ মানুষও এবারে কুরবানির পশু কিনতে পারবেন কি না সন্দেহ রয়েছে। সবজি বিক্রেতারা বলেন আলুর দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা সাধারনের উপস্থিতি নেমেছে অর্ধেকে । এছাড়া অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যের দামও অনেক বেশি। ক্রেতা সাধারনের উপস্থিত কম হওয়ায় প্রায় ব্যবসায়ীরই মাথায় হাত পড়েছে। স্বল্প আয়ের মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের কিছু একটা করার দরকার বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.