বিএনপির সাবেক নেতা তৈমূরের পথেই সাক্কু

রাজনীতি: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভাতিজির সাথে লড়াইয়ে নেমে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার।

বিএনপি থেকে প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রতীকে লড়াই করেছিলেন তিনি। বিএনপির একাংশের অসমর্থন উপেক্ষা করে চষে বেরিয়েছেন নির্বাচনী মাঠে।

কিন্তু শেষতক পরাজয় বরণ করে একুল ওকুল সবই হারাতে হয় তাকে। জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া নাসিক নির্বাচনের ৫ মাস পর অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমিল্ল­া সিটি করপোরেশন নির্বাচন।

নাসিকের মত এখানেও বিএনপি থেকে দেয়া হয়নি মনোনয়ন। বহিস্কার হবার পূর্বেই বিএনপির পদ থেকে সরে দাঁড়ান নির্বাচনে প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর

অবশেষে নৌকার প্রার্থীর কাছে পরাজয় বরণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির ক্ষমতাসীন জনপ্রতিনিধিত্বের অবসান ঘটলো।

নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উভয় নির্বাচনেই বিএনপিপন্থী প্রার্থীদের অভিযোগ ছিলো শুরু থেকেই। অপরদিকে নৌকার প্রার্থীদের অভিযোগ ছিলোনা বললেই চলে। কোন কোন ক্ষেত্রে ইসির ভূমিকাও ছিলো আলোচনায়। কুমিল্লা নির্বাচন জুড়ে দুই প্রার্থীর অবস্থান অনেকটা নাসিক নির্বাচনকেই স্বরণ করিয়ে দেয়। আর সেই কারনে, উভয় নির্বাচনই ছিলো গণমাধ্যমে অন্যতম আলোচ্য ইস্যু। তবে নির্বাচনের ফলাফলে পার্থক্য বিশাল। যেখানে তৈমূর আলম খন্দকার প্রায় ৬৭ হাজার ভোটের ব্যাবধানে পরাজয় বরণ করেছেন নৌকার কাছে। সেখানে কুমিল্লায় সাক্কু মাত্র ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে নৌকার কাছে পরাজয় বরণ করেন। এর সাথ সাথে বিএনপি ও সিটির মেয়র পদ থেকে একযোগে পিছিয়ে গেলেন সাক্কু। তৈমূর আলম খন্দকারের মতই একই পথে সাক্কু হাটায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন বিএনপির তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। তবে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয়াটা সরকারের জন্য সুবিধা এনে দেয়। সেক্ষেত্রে বিএনপি বরাবরই নির্বাচন থেকে বিরত থেকে এই কমিশনকে প্রশ্নের মুখে রেখেছে। কিন্তু তৈমূর ও সাক্কু নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই কমিশন ও সরকারকে সহায়তা করেছে। শেষতক নৌকা জিতবে জানা স্বত্বেও তারা লড়াই করেছে। ফলে তাদের দুজন যে একই পথে যাবেন তা পরিস্কার।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তৈমূর ও সাক্কু উভয়েই মন্তব্য করেছেন নির্বাচনে কারসাজি হয়েছে। উভয়েই প্রত্যাখ্যান করেছেন নির্বাচনের ফলাফল। ইভিএমকে ভোট চুরির বাক্স বলেও মন্তব্য করেছিলেন তৈমূর। এরপরেও সাক্কু ইভিএমের ভরসা নিয়েই দাঁড়িয়েছিলো নির্বাচনে। তবে পরাজয় বরণের পর তিনিও দুষলেন নির্বাচন ব্যবস্থাকে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তৈমূর আলম খন্দকার নির্বাচনের পরে দল থেকে বহিস্কার হয়ে গেছেন। আদৌও ফিরতে পারবেন কিনা তা নিয়েও রয়েছে সন্দেহ। যদিও তিনি আইন পেশার মাধ্যমে বিভিন্ন সময় আলোচনা উঠে আসতে থাকেন। আর সেই কারনে এখনও মনে রেখেছে সবাই। তাছাড়া ঢাকামুখী রাজনীতি, টকশো ও পত্রিকায় কলাম লেখায় তার বাড়তি পরিচিতি রয়েছে। কিন্তু কুমিল্লায় সাক্কুর দৌড় কেবল জনপ্রতিনিধিত্ব পর্যন্তই। পরাজয়ের পর সাক্কুর পরিণতি তৈমূর আলম খন্দকারের মত হয় কিনা সেটিই এখন দেখার বিষয়। সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published.