শক্তিশালী ভূমিকম্প, কাঁপলো আট দেশ

ভূ-অভ্যন্তরে শিলায় পীড়নের জন্য যে শক্তির সঞ্চয় ঘটে, সেই শক্তির হঠাৎ মুক্তি ঘটলে ভূ-পৃষ্ঠ ক্ষণিকের জন্য কেঁপে ওঠে এবং ভূ-ত্বকের কিছু অংশ

আন্দোলিত হয়। এই রূপ আকস্মিক ও ক্ষণস্থায়ী কম্পনই হলো ভূমিকম্প। আর এতে ক্ষয়ক্ষতির যেন শেষ নেই। সম্প্রতি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন।

আহত হয়েছেন আরও আটজন। স্থানীয় সময় শনিবার (২ জুলাই) ভোররাতে দেশটির হরমোজগান প্রদেশে আঘাত হানে এ ভূকম্পন। খবর রয়টার্সের। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে,

দেশটিতে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ১। হরমোজগান প্রদেশের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান মেহরদাদ হাসানজাদেহ বলেছেন, দুর্ভাগ্যবশত এখন পর্যন্ত আমরা তিনজন নিহত ও আটজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।

ইরানি গণমাধ্যমে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ১ বলা হলেও ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২ এবং কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।

#Earthquake of magnitude 6.3 strikes Hormozgan province, southern #Iran, so far killing 3 people and injuring 19.
خسارت #زلزله در #هرمزگان #بندرلنگه https://t.co/Zff2k7MIpe pic.twitter.com/7Y282eM07v

— سیدمحمدموسوی(@seyedmohamad82) July 2, 2022
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও (ইউএসজিএসসি) ভূমিকম্পটির মাত্রা ছয় বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইরানের হরমোজগান প্রদেশের বন্দর এ খামির শহর থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে।

এতে ইরানের পাশাপাশি প্রতিবেশী বাহরাইন, সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানও কেঁপে উঠেছিল বলে জানিয়েছে ইউএসজিএসসি।

Indeed it is a scary night in S. #Iran and #UAE Please make sure not to stay in a damaged building. Our thoughts are with you Stay safe https://t.co/qZK9iApLXs

— EMSC (@LastQuake) July 2, 2022
কিছুদিন আগেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে আঘাত হেনেছিল ৬ দশমিক ১ মাত্রার প্রবল ভূমিকম্প। এতে পাকিস্তানে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও আফগানিস্তানে প্রাণ হারান এক হাজারের বেশি মানুষ।

ভূমিকম্পটিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশ। সেখানে তিন হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। এতে হতাহত হন আড়াই হাজারের বেশি লোক। গত ২২ জুন ভোররাতে মানুষজন ঘুমিয়ে থাকার সময় ভূমিকম্প আঘাত হানায় এবং পাহাড়ি অঞ্চলটির বেশিরভাগ ঘরবাড়ি মাটির হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *