যে প্রতিশ্রুতি সরকারকে দিলেন হেফাজত নেতারা

হেফাজত একটি ও রাজনৈতিক সংগঠন। তবে দেশে বিভিন্ন ইস্যুতে বিশেষ করে ধর্মীয় ইস্যুতে বিভিন্ন সময় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলেছে তারা।

গত বছর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য হেফাজতে বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এদিকে কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি দিলে সরকার ‘বিব্রত’ হয় এমন

কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না প্রতিশ্রুতি দিয়ে বন্দি নেতাদের মুক্তি চেয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৮ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া এক চিঠিতে এ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে বৈঠক করে এই চিঠি দেন।

চিঠির শুরুতেই বলা হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় আপনার অনুগ্রহে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে আলেম-ওলামা ও হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের অনেকেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। এ জন্য আমরা আপনার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা কথা দিচ্ছি, জামিন-পরবর্তী তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবে না, যাতে রাষ্ট্র ও সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক বছরের বেশি সময় আলেম-ওলামারা বন্দী থাকার কারণে তাদের পরিবার এবং নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদ-মাদরাসা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বন্দি আলেমদের অনেকে মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছেন। কাউকে কাউকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হচ্ছে।

আজকের বৈঠকে দেশের ১১৬ জন আলেম ও ১ হাজার মাদরাসার নামে গণকমিশনের কথিত শ্বেতপত্র বাজেয়াপ্ত করা, শিক্ষা আইন-২০২২-এর কমিটিতে কওমি মাদরাসার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার মহানবি (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানানোর দাবি জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, ফোরকান উল্লাহ খলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, ঢাকা মহানগর সভাপতি আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, সাধারণ সম্পাদক কেফায়েত উল্লাহ আজহারী উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *