নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে দিলো তুষার

এবছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে প্রথম হয়েছে যে ছেলেটা তার বাড়ি ফরিদপুর। ফরিদপুরের ছেলে তুষার,

তুষারের ছোট্ট একটা কোচিং আছে (তুষার কেয়ার), ওখানে উনি ফরিদপুরের গরিব ছেলে মেয়েদেরকে ধরে ধরে

এনে বিনা টাকায় পড়ায়। অনেক গরিব শিক্ষার্থী আছে যারা জীবনে কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার কল্পনাও করে নাই, তাদেরকে তুষার বিনা টাকায় পড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এনে দিয়েছেন।

এসব করতে গিয়ে বেচারা তার নিজের ক্যারিয়ারটাও গোছাতে পারে নাই। সেই ছোট্ট কোচিংটাতে তুষারের হাতে গড়ে ওঠে ফরিদপুরের ছেলে এই নোয়েল।

তুষার ওরে ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার থেকে তিলে তিলে গড়ে তোলে। অথচ ছেলেটা আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটে প্রথম হয়ে একটা লাইভে এসে বলছে, ”

আমি ইউসিসি ছাড়া আর অন্য কোথাও কোচিং করি নাই। একমাত্র ইউসিসিই আমার সাফল্যের দাবিদার”! আহারে মানুষ! কোচিংয়ের জন্য তুষা ভাই নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে দিলো, কিন্তু কি পেলো! হয়তো সে নিজেও কখনো ভাবে নাই যে তার হাতে গড়া কেউ এতবড় সাফল্য অর্জন করবে। যেহেতু করেই ফেলছে, এতে হয়তো তুষারের অনেক না পাওয়া কষ্ট দূর হতো। কিন্তু এখন যা হলো তাতে সে যে কষ্ট পেয়েছে হয়তো এখন তাকে একজন ব্যর্থ মানুষ ছাড়া আর কিছুই মনে করে না! কি প্রতিদান পেলো! ছেলেটা ইউসিসিতে কোচিং করছে নাকি করে নাই সেটা আমি জানতে চাই না, আমি শুধু এতটুকু দেখেই অবাক হচ্ছি যে এই ছেলেটা কিভাবে বলে যে একমাত্র ইউসিসিই আমার সাফল্যের দাবিদার!

মেধাবী হওয়া আর মানুষ হওয়া এক জিনিস না। সামান্য কিছু টাকার কাছে নিজের নৈতিকতা বা নিজেকে বিক্রি করে দেওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্ট কাজ। এমন মেধাবীর কাছ থেকে দেশ ও জাতি কিছুই আশা করতে পারে না। যাইহোক,তুষা চোখের পানি তোর জীবনের অভিশাপ না হোক সেটা লক্ষ্য রাখিস ভাই, এটাই সাফল্যের সর্বোচ্চ পর্যায় না, মাত্র তো যাত্রা শুরু করছো! তুষার নিরবে কত কাঁদতেছে সেটা শুধু সে জানে। আমার নিজেরই খুব খারাপ লাগতেছে ওনার জন্য,কারণ ওনাকে আমি আরো তিন বছর আগে থেকেই চিনি এবং ওনার সম্পর্কে জানি, জানি ওনার ত্যাগ সম্পর্কে। শেষমুহূর্তে আবারও একই প্রশ্ন, এতকিছুর পরেও একজন দেশসেরা মেধাবী ছাত্র কোন বিবেকে বললো যে একমাত্র ইউসিসিই আমার সাফল্যের দাবিদার?

Leave a Reply

Your email address will not be published.