রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে সংসদে বসে গান, মুখ খুললেন রিজভী

সংবাদ: জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মমতাজ বেগমের গান গাওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে সংসদে বসে গান শোনা মানবতার প্রতি অবমাননার শামিল। শুক্রবার (১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চলাকালে প্রতি মিনিটে রাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় দুই লাখ টাকা। যেখানে বন্যায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনাসহ দেশের মানুষ ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে,

বেঁচে থাকার লড়াই করছে, সেখানে রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে সংসদে বসে কোনো শিল্পীর গান শোনা রীতিমতো মানবতার প্রতি অবমাননার শামিল। বিএনপির এই মুখপাত্র আরও বলেন,

বিনাভোটে বছরের পর বছর ধরে এমপি পদবী উপভোগ করার পর মমতাজ-নিক্সনদের মনে মন্ত্রী হওয়ার খায়েশ জেগেছে। কিন্তু তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই,

বেশি লোভ ভালো না। রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ করে সংসদে বসে এমন পাগলামি অব্যাহত থাকলে সেদিন আর বেশি দূরে নয়, জনরোষ থেকে বাঁচতে পুরো সরকারকেই জনচক্ষুর অন্তরালে চলে যেতে হতে পারে। বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করাই আওয়ামী লীগের একমাত্র কাজ বলে উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে আওয়ামী লীগ এখন লুটেরা আর টাকা পাচারকারীর দলে পরিণত হয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, একদিকে বন্যা, আবার দফায় দফায় গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। দরিদ্র-শ্রমজীবী মানুষ চরম সংকটে দিনাতিপাত করছে। কিন্তু পত্রিকায় খবর এসেছে সুইস ব্যাংকে যে কোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি অর্থ জমা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় বেড়েছে ৫৫ ভাগ। প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা এই একটি ব্যাংকেই জমা আছে। এরা একদিকে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। এবারের বাজেটেও এই পাচার করা অর্থ দেশে আনার জন্য বিশেষ কর রেয়াতের ঘোষণা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যাকবলিত। সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, জামালপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ ১৫টি জেলার ৯৫টি উপজেলা বন্যায় ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বন্যাকবলিত মানুষরা চরম দুর্ভোগে হাবুডুবু খাচ্ছে। চারদিকে ত্রাণের জন্য হাহাকার। সেদিকে সরকারের ভ্রুক্ষেপ নেই। বন্যার্তদের সাহায্যের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বন্যার শুরু থেকে ত্রাণ কার্যক্রমে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। প্রতিটি দুর্গত এলাকায় আমাদের নেতাকর্মীরা সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করছেন। দুঃখ-দুর্দশায় জনগণের পাশে একমাত্র বিএনপিই থাকে। আর আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা ব্যস্ত থাকে লুটপাট-অপকর্ম, অপপ্রচার নিয়ে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের অপশাসনে সমাজে মারাত্মক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটলেও তাতে নজর নেই। শিক্ষকদের স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। মানুষ যখন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সংগঠিত হচ্ছে, তখন তারা ইভিএমের নামে ভেলকিবাজি শুরু করেছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুস সালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহিন, আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী ও ডা. জাহিদুল কবির প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.