শামীম ওসমানকে দিপুর জবাব

রাজনীতি: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দিপুর বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের।

বছরের পর বছর একসঙ্গে রাজনীতি করলেও জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাদের মধ্যে এখন ফাটল দৃশ্যমান। ফলে একজন

আরেকজনকে কদাচিৎ খোঁচা মেরে কথা বলেন, দেন বক্তব্য। বিপরীতে আসে পাল্টা জবাবও। তেমনি শামীম ওসমানের এক বক্তব্যকে নিজের উপর দায় নিয়ে

সেটার জবাব দিয়েছেন দিপু। জানিয়েছেন কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া। ২৮ জুন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন,

গতবার নারায়ণগঞ্জ বার ইলেকশনেও একটা কাউন্টার কমিটি দিয়েছিল। এতে আমাদের লাভ হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগের প্যানেল অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে জয়ী হয়েছিল। আগে একশ বছরে একটা মোশতাক জন্ম নিত এখন জেলায় জেলায় থানায় থানায় মোশতাক।

প্রসঙ্গত গত আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী হিসেবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৭ জনের পূর্ণ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। বিপরীতে ১৭ পদেই ছিল বিএনপির প্রার্থী। এ দুই প্যানেলের বাইরে সভাপতি ও সেক্রেটারী সহ ৬ জনের একটি প্যানেল অংশ নেয়। এর মধ্যে সভাপতি পদে আনোয়ার হোসেন ও সেক্রেটারী জসিমউদ্দিন সহ ৬ জনের সকলেই সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দিপুর অনুগামী হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু এ ৬ জনের কেউ নির্বাচনে জয়ী হতে পারেনি। ফলে হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও আবু আল আমিন রনির নেতৃত্বে ১৭ জনের পুরো প্যানেল জয়ী হয়।

শামীম ওসমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে আনিসুর রহমান দিপু বলেন, উনি একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। উনি আসলেই সবকিছু জানেন বুঝেন দেখেই আজকে মীরজাফর মোশতাকের কথা তুলেছেন। আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যাপক অংশ, অনেক রতি মহারতি প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী শেখ হাসিনার নৌকা মার্কাকে পরাজিত করার জন্য হাতি, বিএনপিকে জয়ী করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল। জনগণের ভোটের কারণে জনগণের প্রতিরোধের কারণে মোস্তাকরা পরাজিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দেখেছি এই মোশতাকরাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজিম উদ্দিনকে পরাজিত করেছে। এই মোশতাকরাই সারাজীবন বিএনপি করছে হেফাজত করছে জামায়াত করছে এখন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাদের প্রভাবিত করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। তারাই মোশতাক। আমি অনেক আগে থেকেই মোশতাক হাইব্রিড কাউয়াদের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। আজ উনার মুখে মোশতাকের বিরুদ্ধে আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে।

শামীম ওসমানের বক্তব্য প্রসঙ্গে দিপু আরো বলেন, আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের একদিন পূর্বেই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতারা যারা নিজেদের বড় আওয়ামী লীগার মনে করে তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিক নৌকা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিককে পরাজিত করার জন্য উঠে পরে লেগেছিল। হাতি তথা বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য তাকের জয়ী করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছিল। এরাই হচ্ছে মোশতাক।

শামীম ওসমানকে সাধুবাদ জানিয়ে দিপু বলেন, উনি যে মোশতাক মীরজাফরের কথা বলেছেন আমি এই কথায় সাধুবাদ জানাই। এই মোশতাক কারা? যারা সারাজীবন ছাত্রদল করেছে এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এখন বড় আওয়ামী লীগার হয়েছে যারা জীবন জামায়াত করছে হেফাজত করছে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর নেতাদের প্রভাবিত করে নৌকা প্রতিক নিয়ে কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কেউ নৌকা প্রতিকের জোরে নির্বাচিত হচ্ছে। যারা এসব বিএনপি হেফাজতের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে তারাই মোশতাক।

দিপু বলেন, ‘যিনি এই মোশতাক মীরজাফরের কথা বলেছেন তাকে আমি শ্রদ্ধা জানাই। উনি সঠিক কথাই বলেছেন। তিনি একটি কথাও মিথ্যা বলেননি। এখন ঘরে ঘরে মোশতাক হচ্ছে এই মোশতাক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। তবে এই মোশতাক কারা? মীরজাফর কারা? বিগত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দেখা গেছে এই মোশতাক মীরজাফররা প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধীতা করেছে। হাতির পক্ষে ভোট চেয়েছে। এই মোশতাক মীরজাফররা সারাজীবন ছাত্রদল করছে শিবির করেছে এখন এসে আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতার আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে এরা বড় আওয়ামী লীগার হয়ে গেছে। আশ্রয় প্রশ্রয়ে থেকে নৌকা প্রতিক পেয়ে আসছে। সেই সাথে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়ে তাদের আগের চরিত্র প্রকাশ করছে। যা পত্রিকা খুললেই দেখা যায়। তারা জনগণের কল্যাণে কাজ করছে না চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এরাই হচ্ছে মোশতাক। উনার সাথে সুর মিলিয়ে আমিও বলতে চাই আসুন আমরা মোশতাক প্রতিহত করি হাইব্রিডদের প্রতিহত করি।’

সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published.