শামীম ওসমানকে একহাত নিলেন মাসুম

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের একটি গাড়ি নারায়ণগঞ্জ আটকে দেওয়া নিয়ে যে বক্তব্য নিয়মিত দিয়ে আসছেন এমপি শামীম ওসমান

তাঁর কড়া জবাব এসেছে একজন সাংবাদিক নেতার কণ্ঠে। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান মাসুমের দাবী ওই ঘটনা নিয়ে

এখন ইতিহাস বিকৃত করা হচ্ছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমও এর আগে এ নিয়ে কথা তুলেন। সবশেষ ২০ জুলাই একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের টক শোতেও শামীম ওসমান জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলেন।

তিনি বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘১৯৭৮ সালে নেত্রী তখনও দেশে ফেরেননি। আমরা তখন তরুণ। রাজপথে জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকে দিয়েছি। ফ্ল্যাগ নিয়ে তাকে নারায়ণগঞ্জ ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মামলা খেয়েছি, কিন্তু ভয় পাইনি। প্রচুর মার খেয়েছি।’

এর একদিন পর ২১ জুলাই নিজের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পাল্টা তথ্য দেন মাসুম। ৬৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বিকেলে শহরের শায়েস্তা খাঁ সড়কে জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সেমিনার হলে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মাহাবুবুর রহমান মাসুম একই সঙ্গে দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক। ২০০৩ সালে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন করেন রিকশা প্রতীকে। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের নাম মুছে দেয় বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীরা। পরে তৈমূর আলম খন্দকার বিদেশ সফর থেকে এসে সেখানে আবারো জাতীয় পার্টির লেখা জুড়ে দেন ও অফিসের তালা খুলে চাবি মাহাবুবুর রহমানের মাসুমের হাতে তুলে দেন একাধিকবার দাবী করেন তৈমূর। তখন মাসুমের সঙ্গে প্রয়াত এমপি নাসিম ওসমানের সু সম্পর্ক ছিল। মাসুম বর্তমানে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবেই নারায়ণগঞ্জে পরিচিত। ত্বকী হত্যা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি বেশ বজ্রকণ্ঠে সমালোচনা হুশিয়ারী করেন।

প্রেস নারায়ণগঞ্জের সংবাদ মতে ওই অনুষ্ঠানে মাসুম বলেন, ১৯৭৮ সালে আরজু রহমান ভূঁইয়ার সাথে তোলারাম কলেজের ভিপি নির্বাচন করে হেরেছিলাম। প্রতিদ্বন্ধী হলেও আমরা বন্ধু ছিলাম। একদিন শুনলাম জিয়াউর রহমান আসবেন, চাষাঢ়ায় জনসভায় বক্তব্য রাখবেন। আরজুকে বললাম, প্রেসিডেন্টের গাড়ি আটকাতে হবে। তখন সকল দল, ছাত্র সংগঠন মিলে তোলারাম কলেজকে সরকারীকরণের দাবিতে জিয়াউর রহমানের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করলাম, গাড়ি সিকিউরিটি থেকে আলাদাও হয়ে গেল। তিনি একবার হাত তুললেন আর তখন জেলা প্রশাসক বললেন তোমাদের দাবি মেনে নেয়া হবে। আমরা চুপ থাকলাম কিন্তু প্রেসিডেন্ট তোলারাম কলেজ সম্পর্কে কিছুই বললেন না। তখন আমি, সাঈদ, মঈনুদ্দিন, মনিরুজ্জামান বুলবুলসহ আরও অনেকে জিয়াউর রহমানের গাড়ির নিচে শুয়ে পড়লাম। জিয়াউর রহমান মুখ বের করে হয়তো ইশারা করে বললেন, সরিয়ে দিন। তখন আমাদের উপর হেভি টর্চার শুরু হলো। আমরা কলেজে ফিরলে অধ্যক্ষ আমাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করলেন।

মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, এ ইতিহাসগুলো বিকৃত হয়ে গেছে। কেউ কেউ দাবি করে বলেন, ‘গাড়ি ধরলাম, হ্যান্ড শেক করলাম, তারপর বললাম গদিতে আগুন জ্বালাও। বঙ্গুবন্ধু হত্যার বিচার চাই।’ প্রেসিডেন্টের গাড়ি ধরা যত সহজ, তাকে ধরা এত সহজ না। এভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করে, এমনকি জাতীয় সংসদে বসে ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। তোলারাম কলেজে শাহ আজিজ আসবে, সকলে মিলে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এই রাজাকারকে নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ করতে দেবো না। আমরা বিদ্যুতের, টেলিফোন লাইন কেটেছি, অডিটরিয়ামের মধ্যে ‘রাজাকার শাহ আজিজ ফিরে যাও’ লেখা লিখেছি। চ্যালেঞ্জ ছিল একজন সাংসদের সাথে, সে আনবেই। আমরা বলেছি না। নারায়ণগঞ্জে বিশাল বিশাল মিছিল হয়েছিল। অহংকারের কথা না মনে করিয়ে দিতে চাই, যে ইতিহাস বিকৃত করে, তার বাবা একেএম সামসুজ্জোহা আমাকে মশাল মিছিলের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, মাসুম ঝামেলায় যাওয়া যাবে না, জালাল হাজীর বাড়ির গলির মধ্যে আসা যাবে না। আমরা তার কথা মানিনি। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, মশাল মিছিল করেছিলাম। আব্দুস সবুর সেন্টুর বাড়িতে একটা-দুটা না ২০টা মশাল ছুড়ে মেরেছিলাম। আমাদের প্রতিবাদের মুখে সিদ্ধান্ত হল শাহ আজিজ আসবে না। এ সমস্ত আন্দোলনও আমরা তোলারাম কলেজে করেছি।

মাসুম বলেছেন, যারা ইতিহাস বিকৃত করে আমি তাদের নিন্দা জানাই। কথায় কথায় যাকে ভালো লাগে না সে রাজাকার আর রাজাকারকে মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়। এই ট্র্যাডিশনকে বন্ধ করতে আজকের লড়াই। আমরা নারায়ণগঞ্জকে শান্তিময় নারায়ণগঞ্জ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা চাই না ত্বকী, চঞ্চলের, মিঠুর লাশ চাই না, আমরা কারো লাশ চাই না। আমরা শান্তিময়, সন্ত্রাসমুক্ত নারায়ণগঞ্জ চাই। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। আমাদের লাশ পড়ে যাবে কিন্তু পথচ্যুত হবো না। কোনো গডফাদারকে আবারও ডানা মেলতে দেয়া যাবে না। এ আমার জন্মদিনের অঙ্গীকার এবং আমি আমার ভূমিকা সবসময় পালন করে যাবো।

সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published.