পরিকল্পিত হত্যা নাকি ভিন্ন কিছু? ডা. রুলির গুন্ডা দিয়ে মেরে শেষ করে দিছে- মৃত্যুর সময় বাবাকে বলে যান

সংবাদ: সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গতকাল মিছবা উদ্দিন নামে এক ব্যাক্তি ইন্তেকাল করেছেন। জানা যায়, তিনি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার আফতাব আলীর পুত্র।

পরিকল্পিত হত্যা নাকি ভিন্ন কিছু? পুলিশ আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করালে কে বা কাহারা আহত করেছে জানতে চায় পরিবার। জানা যায়, মিছবা উদ্দিন নিজ বাড়ি থেকে সিলেট শহরে আসেন বাক্তিগত কাজে।

এরপর গত ১৯ তারিখ সকালে মিছবাহ উদ্দিনের বাবার নম্বরে সিলেট কোতায়ালি থানা থেকে পুলিশ ফোন দেয়, তিনি না দেখার কারনে ফোনটি ধরতে পারেননি। এরপর স্থানীয় মেম্বার আব্দুর রউফেকে সিলেট কোতায়ালি থানা থেকে কর্মকর্তা পরিচয় জানানো হয় যে

মিছবা উদ্দিনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩ তালায় ভর্তি করেছেন। শরীরে আহতের কিছু চিহ্ন আছে বিস্তারিত হাসপাতালে গেলে জানতে পারবেন। হাসপাতালে গিয়ে মিছবাহ উদ্দিনের বাবা, চাচাত ভাই, ফুফা গিয়ে দেখেন অভিবাবক ছাড়া বিনা চিকিৎসায় করুন অবস্থায় আছেন এরপর

মিছবাহ উদ্দিনের পরিবারের লোকজন ভালো চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের কাছে ছুটতে থাকেন। এসময় ডিউটিরত ডাক্তাররা জানান, বড় ডাক্তার সকালে আসবেন এখন যা চিকিৎসা চলছে তাতেই যথেষ্ট। এমন সময় মিছবাহ উদ্দিন তার পিতাকে বলেন, আমাকে নিয়ে এত দৌড়াদৌড়ি করছেন কেন? আমার আর সময় নাই, আমাকে রুলির গুন্ডারা মেরে শেষ করে দিছে।

উল্লেখ্য যে ডাক্তার রুলি হচ্ছেন মিছবাহ উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী। তিনি বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গাইনি বিভাগে চাকুরীরত। জানা যায়, মিছবাহ উদ্দিনের সাথে প্রায় চার বছর আগে রুলির ডিভোর্স হলেও, মিছবাহ উদ্দিন তার সন্তানদের জন্য পাগল ছিলেন প্রায়। মাঝে মধ্যে সন্তানদের দেখার জন্য বাসায় চলে যেতেন। যদিও রুলির বাঁধার কারনে দেখতে পারতেননা। মিছবাহ উদ্দিনের প্রবাসী ভাই জাবেদ আহমেদ কান্নারত অবস্থায় বলেন, ভাই মরার আগে বাবাকে বলে গেছেন রুলির গুন্ডারা মেরে শেষ করে দিছে। তিনি বলেন, আমার ভাই প্রায় ই তার সন্তানদের দেখার জন্য রুলির বাসায় চলে যেতেন যা রুলি বা তার বর্তমান স্বামী কেউ মেনে নিতেননা। এভাবে অনেকবার গেছেন আগেও আমরা জানতে পেরেছি।

জাবেদ আহমেদ আরোও বলেন, আমার ভাই বলে গিয়েছেন রুলি গুন্ডা দিয়ে মারাইছে অন্যদিকে, যে পুলিশ আমাদের ফোন দিয়েছেন তাকেও পাচ্ছিনা। তাকে ফোন দিলে বলেন, তিনি ছুটিতে যাচ্ছেন বাড়িতে, যদি আপনাদের সন্দহ হয় হত্যা, তাহলে ওসি সাহেবের সাথে যোগাযোগ করুন। তিনি আরও বলেন, আমার বৃদ্ধ বাবা থানায় গিয়েছিলেন সেই সময় সাবেক স্ত্রী ডাক্তার রুলিও গিয়েছেন থানায় পুলিশের সাথে কথা বলেছেন। ডাক্তার রুলি বলেন, ওসমানীর ডাক্তার নাকি প্রাথমিক হাসপাতালের ছাড় পত্রে লিখেছেন হার্টঅ্যাটাক করেছেন। তাহলে এখন আর এইসব করে লাভ কি? আমাদের প্রতিনিধির সাথে কথা বলার সময় গভীর রাত হবার কারনে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

২২ জুলাই স্থানীয় মেম্বার আব্দুর রউফের সাথে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান বিষয়টি রহস্য জনক মনে হচ্ছে, আমি এই মূহুর্তে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পোস্টমেডাম আছি পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাবো। তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন সকলে। এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে জোরালো প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.