তৈমূরের বিকল্প কে? বিস্তারিত…

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির গুরুদশা যেন কাটতেই চায় না। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক বছর পরে কড়া নাড়বে।

বিএনপি নেতারা কোথায় নির্বাচনমুখি রাজনীতি করবে তা না করে এখনো জেলা কমিটির চুলাই ঠেলছেন! প্রাচ্যেরডান্ডি নারায়ণগঞ্জ থেকেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের দামামা বেজেছে যুগে যুগে।

বিএনপি নেতৃবৃন্দ বোধ হয় সেই গৌরবময় ইতিহাস জানে না। কিংবা চর্চার অভাবে ভুলে গেছে। নইলে গাঁ বাঁচানোর রাজনীতি করছে। কেননা দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে

বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা অনুযায়ী দলের নেতাদের গ্রহণযোগ্যতার পারদ সমান উঁচু নয়। যেখানে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের প্রায়

প্রতিদিন বিএনপির প্রতি তোপ দাগছেন। আওয়ামীলীগ নেতারা মন থেকে বিএনপিকে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দিতে চান না। অথচ তোপ দাগানোর বেলায় লক্ষ্যবস্তু বিএনপি। তার মানে আসলে বিএনপির গ্রহণ যোগ্যতা এখনো কমেনি।

সে কথা আওয়ামীলীগ নেতারা পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে দিলেও ঘুম ভাঙ্গছেনা বিএনপি নেতাদের। তারা নিজেদের মধ্যেই দলাদলি নিয়ে ব্যস্ত আছেন। নারায়ণগঞ্জের মত একটা গুরুত্বপুর্ণ জেলা শহরে জেলা বিএনপির কমিটি নিয়ে চলছে ধারাবাহিক তামাশা! এমন বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বোদ্ধামহলের।

সিনিয়র বিএনপি নেতাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপিতে এখনো নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়নি। জেলা বিএনপি কার নেতৃত্বে চলবে। দল সুচারুভাবে পরিচালনা করবে কে ? সামনে রাজপথে কর্মসূচী আসবে। আন্দোলন সংগ্রামও হতে পারে। বা নাও হতে পারে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্যই সঠিক নেতৃত্ব দরকার। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা হবে একজন চৌকষ ব্যক্তিকে। যিনি দক্ষ, যোগ্য, সাহসী একই সাথে তীক্ষè বুদ্ধি সম্পন্ন। যে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিদ্ধহস্ত। এমন নেতাকেই জেলা বিএনপি’র নেতৃত্বের আসনে বসাতে হবে। নামকাওয়াস্তে অভিজ্ঞ, সিনিয়র বা পন্ডিত দিয়ে আর যাই হোক দল পরিচালনা করা যাবে না। কারণ হোমিওপ্যাথি মার্কা নেতারা শীর্ষ পদে বসলে দলের নেতাকর্মীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। কারণ ওই উঠতে বসতে কেন্দ্রীয় নির্দেশের অপেক্ষায় থাকেন। নিজে পরিস্থিতি বুঝে নির্দেশনা দিতে পারেন না। মেঘ এলে ছাতা খোলার জন্য অনুমতি চায়। পুলিশ টিয়ারসেল মারলে কর্মীরা দৌড়ে নিরাপদে সরে যাবে নাকি তারও অনুমতি চায়। এমন হলে টিয়ারসেল এর গ্যাসের ঝাঁজে নেতাকর্মীরা সব আহত হয়ে পড়ে থাকবে। কাজেই করিৎকর্মা নেতা দরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে করিৎকর্মা নেতা নেই। একথা নেতাকর্মীরা কোন কালেই মানতে চাইবে না। নেতা আছে তবে তাদের মূল্যায়ণ নেই। কিছু পুরণো অতি সুবিধাবাদি নেতা আছেন বটে! তাঁরা না ঘরকা না ঘাটকা। দলের পরীক্ষার সময় হলে এরা কি যেন প্যান প্যান করে পিছু হটেন। এদের কারণে নেতাকর্মীরা বিপদে মুখে পড়েন। দলীয় কর্মসূচীতে ব্যানার ফেস্টুনসহ জুনিয়র নেতারা কর্মীদের মিছিলসহ শহরে এসে দেখেন যে তাদের নেতাই পিছুটান দেখাচ্ছেন। তখন সকলেই দোটানায় পড়ে যান। নেতারা বাসায় ফিরে বেশ জমিয়ে দই ও রস-মালাই খান। ওদিকে, নেতাকর্মীরা রাজপথে বিপদে পড়ে যে যেভাবে পারেন পালিয়ে যান। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র এমন চিত্রের পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তনকে আবার দলের পদধারীরা মেনে নিতে পারছেন না। তাই শুরু হয়েছে গুঁটি চালাচালি।

জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জের আমজনতার পছন্দের নেতা হলেন তৈমূর আলম খন্দকার। তিনি জেলার আহবায়ক ছিলেন। কিন্তু নাসিক নির্বাচন করতে গিয়ে তিনি দল থেকে বহিস্কার হন। তাঁর সাথে একই পরিণতির শিকার হন তাঁরই অনুসারী এটিএম কামাল। যদিও কামাল নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক। তবুও তিনি দলের সাংগঠনিক কাজে বেশ পারদর্শী। এই দুই নেতার বহিস্কারাদেশ মেনে নিতে পারেনি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা দুই নেতার বহিস্কারাদেশকে দলের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবেই বিবেচনা করছে। অচিরেই তৈমূর আলম খন্দকারকে দলে ফেরত পেতে চান নেতাকর্মীরা। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, তৈমূর আলম খন্দকার সবদিক থেকে যোগ্য। তাঁর মত জাঁদরেল ও অভিজ্ঞ নেতা দ্বিতীয়টি এই মহানগরীতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এমএ মজিদ অভিজ্ঞ হলেও তিনি ডাবল মার্ডার কেইসের আসামী। তাছাড়া বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ বিদ্যমান। সাবেক এমপি আবুল কালাম বেশ জনপ্রিয় নেতা। কিন্তু বর্তমানে তিনি অসুস্থ। কোমরের সমস্যা তিনি হাঁটাচলা করতে সমস্যায় ভোগেন। তাঁর পক্ষে নেতৃত্ব দেয়া মুশকিল। তিনি পলিসি মেকারের কাজ করে যেতে পারবেন। এবং তিনি সে কাজে বেশ দক্ষ। আরেকজন আছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তিনি মূলত সিদ্ধিরগঞ্জের নেতা। শহরের নেতাকর্মীদেরকে তিনি বাগে আনতে পারবেন না। সব নেতা তাকে মানবে কিনা তাও অনিশ্চিত।

প্রসঙ্গত অভ্যন্তরিন কোন্দলে দিশেহারা নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। জেলায় দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য নতুন করে ৪১ নেতার একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হলেও এই কমিটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দলের ভেতর তৈরী হয়েছে উপদল। গঠন করা হয়েছে সিন্ডিকেট। চলছে উপদলীয় কোন্দল। যার ফলে দিনে দিনে আরো নাজুক অবস্থায় পতিত হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি। বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে তিন নেতার সিন্ডিকেট এই দলের বিপর্যয়ের আরো একটি কারণ। এরা হলেন সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য জাহিদ হাসান রোজেল এবং পান্না মোল্লা।এরা দলের ভেতর উপদল গঠন করে সব কিছু নিয়ন্ত্রন করতে চাইছেন। এই তিন নেতা অনেক বিষয়ে দলের অন্য সব নেতাকে পাশ কাটিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। জেলায় ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি রয়েছে। তাই এই কমিটির অন্য সদস্যরা এই ধরনের সিন্ডিকেট মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না। ফলে এরই মাঝে বিরাজ করছে চরম বিচ্ছৃংখলা।

সুত্রঃ দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম

Leave a Reply

Your email address will not be published.