প্রিয় প্রধান মন্ত্রী ! প্লিজ ! আপনার ওবায়দুল কাদেরের মুখটা একটু বন্ধ করতে বলেন !

এক সময় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন গোলাম মাওলা রনি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওবায়দুল কাদের ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা দেন যা ব্যাপক ভাইরাল হইয়েছে। সেই ভিডিওতে গোলাম মাওলা রনি বলেছেন,

আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব ওবায়দুল কাদের। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন এবং তার যৌবন যখন ছিল, ঠিক সেই সময়টিতে তার যে বক্তব্যের ঢং তার মধ্যে আলাদা একটি নান্দনিকতা ছিল। মানুষ শুনতো এবং দুটো বিষয়ে তিনি বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।

অর্থাৎ রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি সাধারণত যারা ছাত্র রাজনীতি করে এসেছেন আ.লীগের মধ্যে তাদের মধ্যে একটি গ্রুপের তিনি সব সময় নেতৃত্ব দিতেন । আর দ্বিতীয়ত, যখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোন অনুষ্ঠান হতো শিক্ষিত

লোকেদের যখন কোন গেদারিং হত, সেখানে জনাব ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য বেশ গ্রহণযোগ্য ছিল আর এর কারণ হলো তিনি বিভিন্ন বই-পুস্তক থেকে তিনি রেফারেন্স দিয়ে কবিতার ঢংগে এবং কখনো কখনো যাত্রাদলের যে নায়করা যে ভাবে ডায়লগ দেয় সেরকম ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য আকর্ষণীয় ছিল ।

কিন্তু এই ভদ্রলোকটি বয়সের ভারে হোক কিংবা সার্বিক পরিস্থিতি বা পরিবেশের কারণে হোক অথবা বিভিন্ন প্রেসার সামাজিক মানসিক রাজনৈতিক যে প্রেশার কিংবা ইন্টারনাল যে সকল ক্ল্যাস রয়েছে নির্বাচন এলাকায় এগুলো ফলে সম্ভবত তিনি বিপর্যস্ত এবং হতাশাগ্রস্ত তার চেহারায় বার্ধক্যের ছাপ এটি একেবারেই স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। আমরা জানি, সারা দুনিয়ার বুড়ো মানুষ মোড়লদের সবার চেহারা কিন্তু এক হয়ে যায় ।

আবার যারা শিশু তাদের চেহারা সবার একই দেখায়। ওবায়দুল কাদের আগে যেভাবে স্টাইলিশ ছিলেন এখন ইদানীংকালে সেরকম আর দেখা যায় না। তার সেই আগের স্টাইল কাজ করছে না। তিনি যে ভাবে চশমা চোখে দিয়ে কথা বলছেন তার চেহারার মধ্যে তার বক্তব্যের মধ্যে তার চশমার মধ্যে তার যে ভাই রয়েছে বসুহাটের মেয়র তাদের দুজনের বক্তব্যর মাঝে এক বছর আগেও পার্থক্য করা যেত। কিন্তু ইদানীংকালে পার্থক্য করা যাচ্ছে না।

এবং এর ফলে আমার কাছে ব্যাক্তিগত ভাবে মনে হচ্ছে, জনাব ওবায়দুল কাদেরের উচিত সংযত হওয়া। এবং তার উচিত সম্মানের সাথে এই বর্তমান পদ-পদবি রয়েছে এখান থেকে দূরে থাকা যে ভাবে সৈয়দ আশরাফ সব রয়েছেন। সৈয়দ আশরাফ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হলো বুঝতে পেরেছেন দলের মাধ্যমে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এবং দলীয় প্রধান থাকে আর পছন্দ করছেনা। আর অন্যদিকে এই পদে থেকে যে ধরনের পারফর্ম করা দরকার সেটা করতে পারছেন না। ফলে তিনি নিভৃতে চলে গিয়েছিলেন । এবং মাঝে মধ্যে তিনি আসতেন এবং টুকটাক দুই/একটা কথা বলতেন এরপর তিনি আবার অদূরে বা সূদুরে তিনি চলে যেতেন। গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে জনাব ওবায়দুল কাদেরের পরিবেশ এবং পরিস্থিতির ঠিক সেরকম হয়েছে।

কারণ তিনি এখন যাই বলছেন হাসি তামাশার ক্ষেত্র সৃষ্টি করছেন। টল হচ্ছে তার বক্তব্য নিয়ে। বাংলাদেশে যে কতগুলো হাস্যকর ব্যক্তিত্ব রয়েছে, কেউ গান গাইতে চান, কেউ নাচতে চান, কেউ সিনেমা বানাতে চান ইত্যাদি বাংলাদেশের সব জায়গাতেই টল হয় কিছু টিকটক টাইপের চরিত্র। সে দিক থেকে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনেও অনেকগুলো টিকটক ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। জনাব ওবায়দুল কাদেরে যিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যে সুযোগ গুলো পেয়েছেন এরকম দুর্লভ সুযোগ খুব কম রাজনৈতিকবীদদের জীবনে আসে ।

যেমন আ.লীগের আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, জনাব সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বেগম মতিউর চৌধুরী, সাজেদা চৌধুরী তারা আ’লীগ রাজনীতিতে রীতিমতো কিংবদন্তি। এবং আ’লীগের রাজনীতির অভ্যন্তরীণর বিষয়ে অনেক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যারা যথেষ্ট শিক্ষিত এবং শেখ পরিবারের মধ্যে অনেকে ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। আপনারা জানেন শেখ পরিবারের অন্যতম সদস্য শেখ সেলিম, তিনি বাংলার বাণী সম্পাদক ছিলেন ও মালিক ছিলেন। জনাব ওবায়দুল কাদের ছাত্রলীগের সভাপতির পদ থেকে যখন মূল ধারার রাজনীতিতে এলেন তখন সংসদ চালানোর জন্য দীর্ঘ দিন বাংলারবাণি পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসাবে চাকুরী করেছেন।

সেই অর্থে ওবায়দুল কাদের এবং শেখ সেলিম সাহেবের যে সম্পর্ক বস ছিলেন সুদীর্ঘ কাল ধরে। এই ওবায়দুল কাদের যে বস, সেই বসের রাজনৈতিক জীবনের যে উথান তার চাইতেও ওবায়দুল কাদের যে উথান সেটা রীতিমতো ঈর্ষণীয়। এই ঈর্ষণীয় রাজনৈতিক উত্থান এর জায়গায় আর তার যে র্বতমান কথা বার্তা এটির যে পরিবেশ পরিস্থিতি তার সাথে মিলছে না। এই কারণে আমার মনে হচ্ছে তিনি যদি তার অবস্থান বুঝতে পারেন, যে রঙের কোট তিনি পারেন, যেভাবে তিনি ঘড়ি পড়েন, যেভাবে তিনি হাসার চেষ্টা করেন ,

যে ভাবে সেলফি তুলেন, যে ভাবে বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক বিষয় যে ভাবে তিনি সামনে নিয়ে আসেন তার ফলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হয়। দলীয় প্রধানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়। আর তার যে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে দলের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক হতে চান তাদের মধ্যে এক ধরনের উল্লাহ সৃষ্টি হয়ে যায়। গোলাম মাওলা রনি আরও জানিয়েছে ওবায়দুল কাদের সাহেবকে আমি ব্যাক্তি গত ভাবে পছন্দ করতাম। তার সাথে একটা সময় আমার খুব ভালো সম্পক ছিল।বিবেকের টানে আমি এই কথাগুলো বললাম । দ্বিতীয়তঃ যে বিষয়টি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বলবো, ওবায়দুল কাদের বিষয় গুলো যদি তিনি তদারক না করেন। তার বক্তব্যের কিছু বিষয়ে যদি তিনি লাগাম দিতে চেষ্টা না করেন । তাহলে তিনি তাঁর বক্তব্য ধরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

সম্প্রতি ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বলেছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী সারা রাত ঘুমান না। যাতে জনগণ সারারাত ঘুমাতে পারে এজন্য তিনি সারারাত ঘুমান না। এই যে এই ধরনের বক্তব্য তিনি প্রধানমন্ত্রী কে খুশি করার জন্য বলেছেন। কিন্তু সরকার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারনা যেহেতু জনগনের নেই এবং এখন প্রধানমন্ত্রী ব্যাক্তি যতই ভালো হোক না কেন, যতই তিনি তাহাজ্জুদ, তসবি তাহালিল করেন না কেনো তার যে ২ টি নির্বাচন ২০১৪ সালের নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচন এই নির্বাচনের যে দায় এবং দ্বায়িত্বের কাছে তার সকল ব্যাক্তিগত সফলতা এবং তিনি যে উন্নয়নের সম্মলেন ঘটিয়েছেন সব কিছু রীতিমতো ম্লান হয়ে গেয়েছে। অথাৎ এই ২ টি ঘটনা তার রাজনৈতিক জীবনে ব্লাকহোলের মতো কাজ করেছে। এই সামরিক সরকারের যে সাম্প্রতিক কালের ইতিহাস, বা এই সুদীর্ঘ কালের ইতিহাসে ২টি ব্লাকহোল সৃষ্টি হয়েছে। ১ম টি ২০১৪ সালের বীনা প্রতিদ্বন্দীতায় নির্বাচন ২য় টি ২০১৮ সালের রাতের ভোটের নির্বাচন।

সেই ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.