স্বামীর অধিকারের দাবিতে শ্বশুরবাড়ি অনশন, পুলিশের উপস্থিতিতে স্ত্রীকে যা করলেন স্বামী

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্বামীর অধিকারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকালে অনশনরত প্রথম স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তার মোবাইল ফোন।

পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর হিজলতলী এলাকার আক্কাছ আলী মোল্লার মেয়ে খাদিজা আক্তার মনিকা (১৯)।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১ বছর আগে আক্কাছ আলী মোল্লা তার উপজেলার উত্তর হিজলতলী এলাকার বাড়িটি বিক্রি করে দেন।

পরে তিনি তার স্ত্রী ও কন্যা মনিকাকে নিয়ে পাশের নয়ানগর এলাকার আবদুল কাদেরের বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। এ সুযোগে তার সঙ্গে বাড়িওয়ালার ছেলে জুয়েল রানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

দুই বছরের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কের পর তারা দুজনে ২০২২ সালের ১১ জুন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকায় একটি কাজী অফিসে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন।

এর পূর্বে ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর গাজীপুর আদালতে তারা দুজনে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারিজ করেন। এরপর ওই নারী ও তার বাবার বাড়ির লোকজন ঢাকার মিরপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু গত চার মাস আগে প্রথম স্ত্রীর বিষয়টি গোপন রেখে তার পরিবারের লোকজন জুয়েলকে আবার দ্বিতীয়বারের মতো বাল্যবিবাহ করান। বিষয়টি জানতে পেরে প্রথম স্ত্রী মনিকা স্বামীর অধিকারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নয়ানগর তার শ্বশুরবাড়িতে অনশনে বসেন। কিন্তু তার শ্বশুর, শাশুড়ি, সতীন, ননদ মিলে তাকে কাঠ দিয়ে মারধর করেন। এক পর্যায় তিনি ৯৯৯-এ ফোন দিলেও পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি। খবর পেয়ে তার ভাসুর সোহেল রানা বাড়িতে এসে তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করেন। এসময় ধারণকৃত স্বামী-স্ত্রী ও মারধরের প্রমাণ নষ্ট করার জন্য তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার এসআই হাফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে তার ফোনটি উদ্ধার করে দেয়নি। উল্টো পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন।

প্রথম স্ত্রী খাদিজা আক্তার মনিকা আরটিভি নিউজকে জানান, আমার স্বামী গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এমন খবর পেয়ে স্বামীর অধিকারের দাবিতে শ্বশুরবাড়ি আসি। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে মারধর করে। ৯৯৯-এ ফোন দিলেও কোনো সহযোগীতা পাইনি। এরপর আমার ভাসুর সোহেল এসে আমাকে আবারও মারধর এবং শ্লীলতাহানি করে। পরে পুলিশ এলেও তাদের উপস্থিতিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে বের করে দেয়। এসময় থানায় একটি জিডি ও কোর্টে মামলা করার পরামর্শ দিয়ে চলে যেতে বলেন ওই পুলিশ। পরে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী জুয়েল রানা কোনো কিছু বলতে রাজি হননি। তবে জুয়েলের বাবা আব্দুল কাদের রেগে গিয়ে বলেন, তাকে মারধর করা হয়নি। জুয়েলের বড় ভাই সোহেল রানা জানান, তাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। কালিয়াকৈর থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ওই নারী একটি অভিযোগ দিয়েছেন। পরে তাকে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে থানা ডিজি ও কোর্টে মামলা করার জন্য বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.