বিদ্যুতের লোডশেডিং এর জ্বালায় অতীষ্ট দেশের ৮০ ভাগ মানুষ পল্লী গ্রামের, তাদের দুঃখ বুঝবে কে: জামায়াত আমির

গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিদ্যুৎসঙ্কটে চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

দিন নেই, রাত নেই , যেকোনো সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। গ্রাম-শহর সর্বত্র লোডশেডিং। কোথাও সঠিক ভাবে বিদ্যুৎ থাকছে না।

মূলত চাহিদার চেয়ে খুবই কম বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে গ্রাহকদের। এমনকি নানা শহর ও বিভিন্ন জেলার সর্বত্রই বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। অন্য দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা

বিদ্যুৎহীন অবস্থা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। শুধু তাই নয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিদ্যুৎসঙ্কটের কারণে চরম অবস্থা বিরাজ করছে। বিদ্যুৎ না পেয়ে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লোডশেডিং এর কারণে

জনদুর্ভোগ নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। এ নিয়ে রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের আইডিতে একটি পোস্ট দেন। যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে। ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো,

ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার রুটিন প্রস্তুত করতে না পারা সারপ্লাস বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রিয় বাংলাদেশ! এ আওয়াজ জাতিকে অনেক শুনতে হয়েছে — “দেশ এখন বিদ্যুৎ এ সারপ্লাস।” জাতীয় সংসদে জনগণের অর্থ অপচয় করে উল্লাস প্রকাশ করা হয়েছে। এ সময়ে প্রিয় দেশটিতে লোডশেডিং এর রুটিন নিয়ে আমরা ব্যস্ত!! যা আবার একেবারেই তালগোল পাকানো। এতো কেবল শহুরে জীবনের কথা।

৮০ ভাগ জনগণ যারা পল্লী গ্রামে বসবাস করেন, সে জায়গাটিতে দেশের সর্বত্রই লোডশেডিং এর জ্বালায় জনজীবন অতীষ্ট। তাদের কথা ভাবার কি কারো কোনো সময় আছে? রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল অর্থ অপচয় করে দুর্নীতির মাধ্যমে যারা সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে, দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্সের হুংকার দেওয়া সরকার এখন কি তাহলে বিনা শর্তে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে?

তা না হলে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং কেন — যা ইতিহাসের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এমনকি হাত মসজিদের এসি পর্যন্ত চলে গিয়েছিলো। যা জনগণের ক্ষোভের মুখে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। আর কত ঘুমাবো আমরা? রাজনৈতিক নিপীড়নের পাশাপাশি সমানতালে চলছে অর্থনৈতিক তাণ্ডব। জাগতে হবে সবাইকে, নিজেদের অধিকার আদায়ে, জাতি ও রাষ্ট্রকে বাঁচানোর তাগিদে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.