আমার মনে অদ্ভুত এক ভয়, টেনশনের চোটে আমি শুধুমাত্র ১টা কাজ শিখে ফেললাম

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে পরাণ সিনেমার নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিমের একটি স্ট্যাটাস। সেই স্ট্যাটাসে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে যা বলেছেন তা পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো:

সিনেমার দুনিয়ায় আমার পথচলা হুমায়ূন আহমেদ স্যারের সিনেমা দিয়ে। সিনেমার নাম ‘আমার আছে জল’। প্রথম দিনের শুটিং এর কথা মনে পড়ছে। রেলস্টেশনে আমরা সবাই ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি- এমন একটা দৃশ্য। স্যার শট নিচ্ছেন।

এক কিংবা দুইবারেই শট “ওকে” হয়ে গেল। স্যার খুব খুশি হয়ে বললেন, ‘বাহ, এত জলদি ওকে হয়ে গেলো। ভেরি গুড, শুভসূচনা হয়েছে সিনেমার” স্যারের আনন্দ দেখে আমার যে কী পরিমাণ আনন্দ হল, ভাষায় প্রকাশ করার মত না! স্যার আনন্দের পাশাপাশি টেনশনও দিতেন, প্রয়োজনীয় টেনশন যাকে বলে।

সিনেমাটা যারা দেখেছেন, তারা জানেন, শেষ দৃশ্যে আমাকে পুকুরের মাঝে দেখা যায়। স্যার বললেন, ‘সাঁতার পারো? না পারলে তো হবে না। এই দৃশ্য লাগবেই। পানিতে ফেলে দেব তোমাকে’

এই কথা আমার মনে অদ্ভুত এক ভয় আর টেনশন ঢুকিয়ে দিলো। টেনশনের চোটে আমি শুধুমাত্র এই সিনেমার জন্য সাঁতার শিখে ফেললাম। এই সিনেমাতে অভিনয়ের আগ পর্যন্ত আমি সাঁতার জানতাম না।

নির্ধারিত দিনে সেই বিশেষ দৃশ্য শুটিং এর সময় আমি ভয়ে ভয়ে সেটে গেলাম। গিয়ে অবাক হলাম। কারণ আমার জন্য স্যার পুকুরের মাঝে আগেই একটি ভেলার ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন, যেন আমার কোন ধরনের সমস্যা না হয়। এই ব্যাপারটা কেউ জানতো না, শুধুমাত্র আমাকে টেনশনে রেখে এরপরে চমকে দেয়ার জন্য এই কাজটি করেছিলেন স্যার।
এমনই ছিলেন আমাদের হুমায়ূন আহমেদ স্যার।

আজকে যখন আমার পরাণ সিনেমা রিলিজ হয়েছে, দর্শকেরা এত পছন্দ করছেন এই সিনেমা, টিকেটের জন্য এত ভীড় করছেন; সেই ভীড়ের মাঝে তখন আমি একজন হুমায়ূন আহমেদকে খুঁজে ফিরি। স্যার বেঁচে থাকলে কী হত? স্যার কতটা খুশি হতেন আমার অভিনয় দেখে? পরাণ দেখে তার মন্তব্য কী হত? আমার এই সাফল্য দেখে স্যার কেমন বোধ করতেন?- খুব জানতে ইচ্ছে করে, তবে জানার উপায় নেই। মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাই প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ স্যার!

Leave a Reply

Your email address will not be published.