সুর বদলালেন সিইসি!

নির্বাচনে প্রতিপক্ষের মোকাবিলায় অস্ত্র হাতে রাজনৈতিক দলকে নামার পরামর্শ দেওয়ার ৪ ঘণ্টার মধ্যে সুর পালটালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

এ সময় তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার তাগিদ দেন। প্রয়োজনে নিজ পদ ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলেও জানান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের প্রথমদিন রোববার এসব কথা বলেন।

সকালে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সঙ্গে সংলাপের একপর্যায়ে সিইসি নির্বাচনি সহিংসতায় একপক্ষ তলোয়ার নিয়ে এলে প্রতিপক্ষকে রাইফেল নিয়ে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি সহিংসতা বন্ধ করতে পারবেন না বলেও জানান।

বিকালে বাংলাদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সংলাপে আগের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনকে এক ধরনের যুদ্ধ হিসাবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে আসলে অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ করলে হবে না। আপনাদের জনসমর্থম নিয়ে যুদ্ধ করতে হবে। আপনারা তলোয়ার-রাইফেল নিয়ে যুদ্ধ করবেন না। আপনারা ব্যালট নিয়ে যুদ্ধ করবেন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রোববার সংলাপ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্র্যন্ত এনডিএম, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এবং দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত বাংলাদেশ কংগ্রেসের সঙ্গে সংলাপ হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে অপর চারজন কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।

এনডিএমের সঙ্গে সংলাপের একপর্যায়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা সহিংসতা বন্ধ করতে পারব না। আপনাদেরও (রাজনৈতিক দলের) দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ খেলোয়াড় কিন্তু আপনারা। আপনারা মাঠে খেলবেন, আমরা রেফারি। আমাদের অনেক ক্ষমতা আছে। ক্ষমতা কিন্তু কম না, ক্ষমতা প্রয়োগ করব। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন,

সব দল সহযোগিতা না করলে আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়ে যাব। আপনাদের সমন্বিত প্রয়াস থাকবে, কেউ যদি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়ায়, আপনাকে রাইফেল বা আরেকটি তলোয়ার নিয়ে দাঁড়াতে হবে। আপনি যদি দৌড় দেন, তাহলে আমি কি করব? কাজেই আমরা সাহায্য করব। পুলিশের ওপর, সরকারের ওপর আমাদের কমান্ড থাকবে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে সিইসির ওই বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘কেউ একজন পিস্তল নিয়ে মাঠে নামলেই আমি শটগান নিয়ে মাঠে নামতে পারি না। কারণ আইন আমাকে বাধা দেয়। ভোটকেন্দ্র দখল হলে প্রশাসনকে দিয়ে প্রতিহত করতে হবে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণের নিশ্চয়তা ইসিকে দিতে হবে।’

কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে দাবি করে সিইসি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা শতভাগ স্বচ্ছ আছি। ভবিষ্যতে চোর হব না ডাকাত হব-এখনই সেটা বলা ঠিক হবে না। ২০১৪ সালের নির্বাচন বা ২০১৮ সালের নির্বাচনের দায় আমাদের ওপর চাপাবেন না।

তিনি বলেন, দেশে একটিমাত্র দলের ৩০০টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে সাংবিধানিকভাবে কোনো বাধা নেই। তবে ইতিহাস বলে, সেক্ষেত্রে অচিরেই গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হবে। স্বৈরতন্ত্র মাথা জাগাবে। গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হয়ে পড়বে দুরূহ।

তবে বিকালে সিইসি রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্তির ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনার ভোট আপনি, আমার ভোট আমি দেব। আমার লোককে আপনি ভোট দিতে দেন। আপনার লোককেও আমি সমভাবে ভোট দিতে দেব-এ চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘শক্তির ভাষায় কথা না বলে টেবিলে বসে যুক্তির ভাষায় কথা বলুন। গঠনমূলক আলোচনা করুন। সংকট কেটে যেতে পারে, অনাস্থা দূর হতে পারে; বা কমে আসতে পারে। অনুকূল পরিবেশ এবং সমতল ভিত্তির ওপর নির্বাচন পরিচালনার আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘সবার দায়িত্বশীল আচরণ এবং একান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.