সেই প্রেমিকা প্রতারনা করছে তার প্রেমিকের সঙ্গে, যাকে সে নিজের সুযোগের জন্য ব্যবহার করেছে

তরুণ নির্মাতা রায়হান রাফি নির্মিত ‘পরাণ’ সিনেমা ঈদুল আজহায় মুক্তি পেয়েছে। ত্রিভুজ প্রেমের গল্প নিয়ে নির্মিত এ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ, বিদ্যা সিনহা মিম ও ইয়াস রোহান।

মুক্তির পর থেকে সিনেমাটি চলচ্চিত্র প্রেমীদের প্রশংসা কুড়াছে। পরাণ সিনেমায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র করেছেন বিদ্যা সিনহা মীম। কারণ উপমহাদেশের নায়িকারা মানেই শুদ্ধ প্রেমিকা,

তারা খল হতে দেয়া হয় না৷ বরং প্রেমের জন্য বাবা,মা ছাড়তেও দ্বিধা করে না। সেই প্রেমিকা প্রতারনা করছে তার প্রেমিকের সঙ্গে,যাকে সে নিজের সুযোগের জন্য ব্যবহার করেছে৷ আবার ঠিক ই নতুন কাউকে পেয়ে তাকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।

আর শেষের চমকে তো দর্শকদের হতবাক ই হবার কথা। যেকোনো নায়িকার জন্য বেশ ঝুঁকির ব্যাপার, দর্শকেরা তাকে সহজে গ্রহণ করতে পারবে না৷ তবে এই চ্যালেঞ্জ টা নিলেন মীম। শুধু চ্যালেঞ্জ ই নেন নি,সফল হয়েছেন।

কলেজ পড়ুয়া মফস্বলের তরুনী মেয়ের চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন ভালো ভাবেই৷ পরাণ সিনেমা হলে দারুণ চলছে,গ্রহণ করছে মীমকেও। আর এই ছবির সাফল্য পেলে মীমের ক্যারিয়ারের বিশেষ প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।

বিয়ের পর নায়িকাদের ক্যারিয়ার থেমে যায়,এটা ভুল প্রমাণ করলেন তিনি। পরাণ তো সিনেমা হলে চলছেই, টিভির জন্য কার্নিশ,মনের মানুষ, চেহারাতেও কাজ করেছেন অনায়সে৷ সেখানেও সমাদৃত তিনি। এই ঈদ টা সত্যিই মীমের জন্য সাফল্যের চাঁদ নিয়ে এসেছে। রাফির ই ‘দামাল’ সিনেমায় আছেন নায়িকার চরিত্রে, মুক্তি পাবে শীঘ্রই। ইত্তেফাকের কাজ অবশ্য আটকে আছে, জানি না আর হবে কিনা৷ পরাণ সিনেমার পর আরো চলচ্চিত্রে অফার আসবে আশা করাই যায়। ২০০৭ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার থেকে যাত্রা করা এই অভিনেত্রী টিভিতেও ছিলেন আলোচিত তারকা। শেষের কবিতা পরের কবিতার মত নাটক এখনো জনপ্রিয়, ছিলেন মডেলিং তেও জনপ্রিয়। সাপলুডু সিনেমার জন্য কিছুদিন আগে দর্শক জরিপে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার পেয়েছেন,জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন জোনাকীর আলো ছবির জন্য৷ চলচ্চিত্রে তার অভিষেক হুমায়ূন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ সিনেমা দিয়ে৷ মীম কে নিয়ে অনেক প্রত্যাশা ছিল সবার,তার কিছু মিটেছে আবার মিটেও নি। কখনো আমার প্রাণের প্রিয়া করে আলোচিত হয়েছেন কখনো আমি নেতা হবো,দুলাভাই জিন্দাবাদের মত ছবি করতেও হয়েছে। পদ্ম পাতার জল করে প্রশংসা পেয়েছে, ওপার বাংলার সৃজিতের ইয়েতি অভিযান করেছেন। তুমি সন্ধ্যার মেঘমালার তো কাজ ই শুরু হল না। চলচ্চিত্রে নিজেকে সফল করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে গেছেন, কিন্তু সেভাবে সাফল্য পায়নি। অথচ সে রুপে,সৌন্দর্যতা,অভিনয়ে সত্যিই অনন্যা। পরাণ সিনেমা তাকে ব্যস্ত করে তুলুক সিনেমায়, এটাই চাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published.