রিফাত যাচ্ছেন নগর ভবনে সাক্কু ট্রাইব্যুনালে, দু-এক দিনের মধ্যেই শুরু লড়াই

এরই মাঝে এ নির্বোচনে ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের পক্ষে ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। ৪ জুলাই রিফাতের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পন্নের প্রায় ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনোভাবেই শেষ হচ্ছে না এ নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

এদিকে কুসিক নির্বাচনে ৪টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন এবং প্রকাশিত গেজেট স্থগিত চাইতে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছেন পরাজিত মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু।

তিনি এ সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। দু-এক দিনের মধ্যেই তিনি আইনি লড়াই শুরু করবেন বলে বুধবার জানিয়েছেন সাক্কু।

জানা যায়, নির্বাচনি বিধিমোতাবেক নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তার পক্ষে যে কেউ ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারেন।

তাই নির্বাচনবিধি অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কুসিক নির্বাচনে পরাজিত মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু মামলার সব প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে সাক্কু ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলেও শপথ নিয়ে নগর ভবনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিজয়ী মেয়রপ্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। এরই মাঝে তিনি প্রতিনিয়তই নগর পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন বলেও জানা গেছে। নগর ভবনের চেয়ারে বসেই রিফাত নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন।

অপরদিকে, ২৩ জুন কুসিক নির্বাচনে বিজয়ী মেয়র আরফানুল হক রিফাত, ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলরদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে ২২ জুন চারটি কেন্দ্রের ফলাফল এবং গেজেট বাতিল করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন মনিরুল হক সাক্কু। আবেদনে তিনি দাবি করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা মেয়র পদে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০১টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একটি একটি করে ঘোষণা করেন। এতে আমি টেবিলঘড়ি প্রতীকে ৪৮ হাজার ৪৯২ ভোট পাই। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ৪৭ হাজার ৮৬৩ ভোট পান। ১০১টি ভোটকেন্দ্রে আমি রিফাতের চেয়ে ৬২৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম। ১০১টি ভোটকেন্দ্রের ফল ঘোষণার পর প্রকাশ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি অজ্ঞাত টেলিফোন আসে। এ সময় তিনি ৫ মিনিটের জন্য সময় চেয়ে আসন থেকে উঠে যান।

এরপর তিনি তার চেয়ার থেকে উঠে যান এবং ফলাফল স্থগিত করেন। আইন ও নিয়মবহির্ভূতভাবে বাকি চারটি ভোটকেন্দ্রের মেয়র প্রার্থীর ফলাফল স্থগিত ঘোষণা করে রিটার্নিং কর্মকর্তা কাউন্সিলর পদে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে পদক্ষেপ নেন। তখন আমি এবং আমার নির্বাচনি এজেন্টরা প্রতিবাদ করেন। এরপর রিটার্নিং কর্মকর্তা ৪৫ মিনিট ফল স্থগিত রাখেন। তারপর ফলাফল একটি একটি করে ঘোষণা না করে অঘোষিত চারটি কেন্দ্রের ফলাফল ১০১টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোটের সঙ্গে যোগ করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতকে ৫০ হাজার ৩১০ ভোট দেখিয়ে ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

সাক্কু বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার নির্দেশে নগরীর ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আমার এজেন্টদের ফলাফল বিবরণী না দিয়ে কেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। দিশাবন্দের নতুন ও পুরোনো ভবন ভোটকেন্দ্রে ফলাফলের তালিকায় যে স্বাক্ষর ও পিন নম্বর আছে, সেটি আমার এজেন্টদের নয়। শালবন বিহারকেন্দ্রে ভোটের ফলাফলে আমার এজেন্টের কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর এজেন্টেরও স্বাক্ষর নেই। তারা আমার ফল নিয়ে ব্যাপক জালিয়াতি করেছে। এখন আমি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে যাব।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, পরাজিত প্রার্থীদের অভিযোগ এটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে, কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আমরা সম্পন্ন করতে পেরেছি, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। মনিরুল হক সাক্কুর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ভোটের চার দিন পর ব্যাখ্যা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *