সেই অস্ত্রটি থানায় দিয়ে এলেন স্ত্রী, অতঃপর যা হলো

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মনিরুজ্জামান জুয়েল নামে এক ব্যক্তির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

তবে সেই অস্ত্রটি এখন থানায় রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে অস্ত্রটি থানায় জমা দেন জুয়েলের স্ত্রী ফারজানা হক।

জানা গেছে, দেখতে অত্যাধুনিক ও সামরিক বাহিনীর অস্ত্রের মতো মনে হলেও এটি পয়েন্ট ২২ (.২২) বোর রাইফেল।

এটি জিএসজি-৫ মডেলের রাইফেল। জার্মানির তৈরি অস্ত্রটির মডেল A354916।

অস্ত্রটি জমা দেওয়ার সময় ফারজানা একটি জিডি করেন। এতে তিনি লেখেন, তার স্বামী মনিরুজ্জামান হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার সম্মতিতেই অস্ত্রটি এবং নিরাপত্তার স্বার্থে থানা হেফাজতে রাখার আবেদন করেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ছবিটি অনেক আগের। তারপরও যেহেতু ছবিটি নিয়ে সারা দেশে আলোচনা চলছে- তাই অস্ত্রটি পুলিশ হেফাজতে দেওয়ার জন্য বলা হয়।

পরে অস্ত্রটি থানায় নিয়ে আসেন ফারজানা হক। আমি আগেও বলেছি, অস্ত্রটির লাইসেন্স আছে। আবার মিলিয়ে দেখলাম এটির লাইসেন্স আছে তার কাছে। চেক ডিজঅনারের একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা আছে। তাই আমরা তাকে ধরতে চেষ্টা করছি।’

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে নিজ গ্রাম মান্দারিয়ায় ফিরছিলেন চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার। নালঘর পশ্চিম বাজার সামাদ মেম্বারের বাড়ির কাছে তার গাড়ির গতিরোধ করে হামলা চালান ‘যুবলীগ নেতা’ হিসেবে পরিচিত মনিরুজ্জামান জুয়েলসহ ৭/৮ জন।

এ সময় চেয়ারম্যান গাড়ি থেকে নেমে দৌড়ে একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তার গাড়ি হকিস্টিক দিয়ে ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা এগিয়ে এলে মনিরুজ্জামান ও তার সঙ্গীরা পালিয়ে যান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের দাবি, এ সময় এই অস্ত্রটি প্রদর্শন ও তাকে হত্যার চেষ্টা করেন জুয়েল। পরে এই অস্ত্রটিসহ ছবিটি পোস্ট করেন চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার। এরপরই সারা দেশে ভাইরাল হয় তার ছবিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.