মেয়র আরিফের ৩ প্রস্তাব

সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বন্যার পানি থেকে নগরকে রক্ষা করতে কয়েকটি বিষয়ে প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন। এসব প্রস্তাবনা তিনি নিজ হাতে স্থানীয় সরকার

মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। এ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গেও। তবে প্রস্তাবনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তিনটি বিষয়কে।

গত ২১শে জুন ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া সিলেটবাসীকে দেখতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন তিনি সার্কিট হাউসে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে

মতবিনিময় করেন। এই সভায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। এটি এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

মেয়র আরিফুল হক গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন, ‘সিলেট নগর এলাকাকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে কয়েকটি প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়েছে।

এসব প্রস্তাবনায় বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবনার একটি কপি সিলেট সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে দেয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, ‘বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং বন্যা থেকে নগর রক্ষার প্রস্তাবনাসহ সার্বিক বিষয় তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

সেই প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সোম কিংবা মঙ্গলবার সেটি তিনি নিজে জমা দিয়ে আসবেন।’ সিলেট নগরকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করতে প্রথম যে বিষয়টির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে সেটি হচ্ছে সুরমা নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ। নগরের শ্রীরামপুর এলাকা থেকে টুকের বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার সুরমা নদী রয়েছে। নগরের বুক চিরে এই নদী বহমান। নগরকে উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করেছে সুরমা নদী। এ নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুক খেলার মাঠ হয়ে যায়। নৌকা চলাচল করতে পারে না।

আর বর্ষা এলে তীরবর্তী এলাকার ১৪টি ওয়ার্ড ডুবে যায়। এ কারণে মেয়র আরিফ এই ১৬ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করার ব্যাপারে প্রস্তাব দিয়েছেন। বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নগরীর ১১টি ছড়া বা খালের প্রবেশমুখে সøুইচ গেট নির্মাণের প্রস্তাব করেছেন। এসব খাল কিংবা ছড়ায় বর্ষার মৌসুমে গেট বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে নদীর পানি খাল দিয়ে নগরে ঢোকার সুযোগ পাবে না। যখন প্রয়োজন তখন সøুইচ গেট খুলে দেয়া হবে। মেয়র জানিয়েছেন- গোয়ালী, মালনী, ভুবি ও হলদিছড়াসহ কয়েকটি বড় ছড়া রয়েছে। এসব ছড়া দিয়ে পানি প্রবেশ করে নগর তলিয়ে যায়। এ কারণে বড় বড় ছড়াগুলোতে সøুইচ গেট নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

নগর রক্ষাবাঁধ নির্মাণ ও সøুইচ গেট নির্মাণ হয়ে গেলেও বৃষ্টির পানি থেকে শহরকে রক্ষা করার জন্য পাম্প হাউজ নির্মাণ করতে হবে। নদী তীরবর্তী প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে পাম্প হাউজ নির্মাণ করতে হবে। এতে অন্তত ৭টি পাম্প হাউজ নির্মাণের প্রয়োজন পড়বে। যেসব এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকার সম্ভাবনা থাকবে সেসব এলাকার পানি পাম্প দিয়ে সেচে নদীতে ফেলে দিতে হবে। আর এতে করে সিলেট নগরীতে উজানের ঢল ও বন্যা থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এদিকে সিলেট নগরী যেহেতু বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় সে কারণে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবার প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। টাকার হিসেবে ক্ষতি প্রায় ২শ’ কোটি টাকার। বছর বছর এই ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কয়েকটি রাস্তাকে আরসিসি ঢালাইয়ে রোড নির্মাণের প্রস্তাবনা দিয়েছেন। মেয়র জানান, আরসিসি ঢালাই হয়ে গেলে এসব সড়ক আর ভাঙবে না। এতে বছর বছর টাকা গচ্ছা যাবে না।

পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে উন্নত করা গেলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এবার দু’দফা বন্যায় সিলেট আক্রান্ত হওয়ার কয়েকটি কারণও তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আব্দুল মোমেন। ঈদের জামাত আদায় শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেছেন, সুরমা নদীর তলদেশ ভরাট, ছড়া-খাল দখল, দিঘি ও পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সিলেট নগর বন্যার পানিতে ডুবে যায়। তিনি সুরমা নদী খনন, বেদখল হওয়া পুকুর, দিঘি ও ডোবা উদ্ধারের কথা জানান। এজন্য জনপ্রতিনিধিসহ সিলেটের সুধী মহলের সহযোগিতা চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.