প্রবাসীর স্ত্রীকে তালাকে বাধ্য করলেন চেয়ারম্যান, জানা গেল নেপথ্যের কারণ

ঢাকার ধামরাইয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার প্রেমিককে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়েছে। নির্যাতনের মুখে ওই নারী স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য হন।

এরপর তাকে ৪ ও ৭ বছর বয়সি দুই মেয়েসহ স্বামীর বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে প্রেমিকের কাছ থেকে দুটি ব্যাংকের সাদা চেক ও ননজুডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়।

মঙ্গলবার রাতে কুল­া ইউনিয়নের চন্দ্রইল-খাতরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইউপি চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান এসব কাজ করান বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খাতরা গ্রামের প্রবাসী মো. মনির হোসেন এক যুগ ধরে সৌদি আরবে থাকছেন।

ঘরে রয়েছে স্ত্রী বিথী আক্তার ও দুই কন্যা সন্তান। এ সুযোগে স্থানীয় কনফেকশনারি ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হাসানের সঙ্গে বিথীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তা দৈহিক সম্পর্কে গড়ায়। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে গোপনে ওই বাড়ির আশপাশে পাহারা বসায়। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জাহিদ বিথীর ঘরে এলে পাহারাদাররা দুজনকে আটক করে।

এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও মাতব্বরদের ডেকে আনা হয়। দুজনকে বেঁধে রেখে শাসনের নামে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়। ভোরে কাজী ডেকে এনে স্বামীকে তালাক দিতে বিথী আক্তারকে বাধ্য করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এরপর তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি গাঙ্গুটিয়া বাজারের পূর্বপাশে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বিথী ওই গ্রামের মো. মানিক মিয়ার মেয়ে।

বিথী আক্তার বলেন, কয়েক বছর আগে জাহিদের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আমি জাহিদকে মোবাইল ফোনের ব্ল–টুথ নিয়ে বাড়িতে আসতে বলেছিলাম। সে এলে গ্রামবাসী তাকে আটক করে আমাদের দুজনকে এক কক্ষে আটকে রেখে আপত্তিকর ভিডিওচিত্র ধারণ করে। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে।

জাহিদ হাসান বলেন, আমি মোবাইল ফোনের ব্ল–টুথ নিয়ে পাওনা টাকার জন্য ওই বাড়িতে যাই। দরজার কাছে দাঁড়াতেই ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে অন্যরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে তালা দেয়। এরপর ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান, বোরহান উদ্দিন মেম্বার, মো. আব্দুল হক, মো. আব্দুল বারেক ও আবেদ আলীসহ মাতব্বরদের ডেকে আনা হয়।

তারা আমাকে রাতভর নির্যাতন করে। তাদের দাবি করা নগদ ৫ লাখ টাকা দিতে না পারায় আমার কাছে ব্যাংকের দুটি ব্ল্যাংক চেক ও ননজ–ডিশিয়াল সাদা স্ট্যাম্পে সই নিয়ে আমাকে আমার পরিবারের কাছে ছেড়ে দেন। এ ব্যাপারে ধামরাই থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছি।

ইউপি চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রেমিক যুগলকে আটকে রেখে গ্রামবাসী আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে যাই। প্রবাসীর ওই স্ত্রী স্বামীর ঘরসংসার করবে না, তাই তালাক সম্পাদন করা হয়। প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ায় পরকীয়া প্রেমিকের কাছ থেকে ব্যাংকের চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে সই নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন, লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.