বিক্ষোভ থামাতে সেনাবাহিনীকে কড়া নির্দেশ

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালানোর পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর দখলে নিয়ে বিক্ষোভকারীদের চলমান আন্দোলন থামাতে সেনাবাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

দিয়েছেন দেশেটির প্রধানমন্ত্রী ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি রনিল বিক্রমাসিংহে। স্থানীয় সময় আজ বুধবার এক টেলিভিশন বক্তৃতায় বিক্ষোভকারীদের ‘ফ্যাসিস্ট’

আখ্যায়িত করে তিনি এ নির্দেশ দেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি’র খবরে এ কথা বলা হয়। সেনাবাহিনীর উদ্দেশে রনিল বিক্রমাসিংহে বলেন,

‘শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য যা যা করা দরকার, তাই করুন। আমরা আমাদের সংবিধানকে ছিন্ন করতে পারি না। আমরা ফ্যাসিস্টদের ক্ষমতা দখল করতে দিতে পারি না। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য এই ফ্যাসিবাদী হুমকির অবসান ঘটাতে হবে।’

বিক্রমাসিংহে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় ভবন দখলকারী বিক্ষোভকারীদের সেগুলো ছেড়ে যেতে বলেন এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে মালদ্বীপে পালিয়ে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আজ মিছিল করে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের দপ্তরের দখল নেয় হাজারো বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভকারীরা টিয়ার গ্যাস উপেক্ষা করে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের গেট খুলে ফেলার চেষ্টা করে।

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে তার দপ্তরে নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের পক্ষ থেকে সারা দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং পশ্চিম প্রদেশে কারফিউ জারির পাশাপাশি কিছু আদেশ জারি করেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া মালদ্বীপে পালিয়ে গেলে স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে রনিলকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, রনিলের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমমন্ত্রীর দপ্তর দখল করে নেয় বিক্ষোভকারীরা।

স্বাধীনতার পর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত শ্রীলঙ্কা। ব্যাপক মূল্যস্ফীতির মুখে পড়ে দেশটি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধেও ব্যর্থ হয়েছে। দেশের এ পরিস্থিতির জন্য প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে এবং তার পরিবারকে দায়ী করে আসছে শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.