প্রতিবেশী দেশ ভারতে এক রকম, আমাদের দেশের বেলায় তা উল্টা

প্রতিনিয়ত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারত- বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। দেশের আইন- কানুন, রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে

ব্যাপক আলোচনা হয়ে থাকে। ভারতে কোন জিনিস কত দামে আর একই জিনিস বাংলাদেশে কত দামে পাওয়া যায়, তা নিয়েও চলে আলোচনাও সমালোচনা।

এ নিয়ে নেটিজনরা বিভিন্ন মন্তব্য করে থাকেন। অনেকে আবার এর তীব্র নিন্দাও জানান। সম্প্রতি এক নেটিজনের ফেসবুক পোস্টে উঠে এসেছে নানা তথ্য, তা তুলে ধরা হলো-

পৃথিবীতে প্রায় ২৫০টিরও বেশি দেশ রয়েছে, যেগুলোর আয় বাংলাদেশের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু তারা মনগোড়া কোনো নিয়ম কানুন, পণ্যের দাম কমা বাড়া করতে পারে না।

যেমন: আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ। এর অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড়। তবু অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়েও তারা বাজারদর সমান রেখে চলে।

ফলে তাদের দেশের মানুষ খুব কম সংখ্যক বাংলাদেশে আসে কেনাকাটা করার জন্য। কিন্তু আমাদের দেশের বেলায় তা উল্টা। আমাদের দেশের কাপড়ের সাথে ভারতের কাপড়ের পার্থক্য প্রধানত দাম বেশি। ওদের কাজ ভাল, কালার কম্বিনেশন ভালো।

ওখানকার পোশাক এনে বাংলাদেশে বিক্রি করে কিন্তু দাম রাখে দুইগুণের বেশী। এর কারণ কি? পাশ্ববর্তী দেশে ভারতে যে বাইকের দাম ৫০হাজার। আমাদের দেশে সেই বাইকের দাম ২ লাখের উপরে। ভারতে ১০০ কি:মি রাস্তায় ভাড়া আসবে বড়জোর ২০/৩০ টাকা, আমাদের দেশে সেইম মাপের রাস্তায় ২০০ টাকার উপরে ভাড়া।

চিকিৎসাখাতে বাংলাদেশ ও ভারতের পার্থক্য আকাশ পাতাল। বিদ্যুৎ বিলে ও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি বিল আমাদের বাংলাদেশ। ভারত ,পাকিস্তানে ,নেপালে ১০০ কেজি ওজনের গরুর দাম বড়জোর ৪০ হাজার টাকা। দুর্ভাগ্য আমাদের দেশে সেইম ওজনের গরুর মূল্য ৬০ হাজারের উপরে।

শিক্ষাখাতে আমাদের বর্তমান এডুকেশন সিস্টেমের কথা নাই বললাম। ভারত ও পাকিস্তানের এডুকেশন মান আমাদের চেয়ে ১০০ ধাপ এগিয়ে। পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে ৫/৬ লাখ টাকা বার্ষিক আয়ের পর ট্যাক্স বসায় সরকার। কিন্তু আমাদের দেশে ২.৫ লাখের পর থেকে অতিরিক্ত ট্যাক্স রেট বসা শুরু।

ইন্টারনেট বিল, মোবাইলের কল রেট সব দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার আমাদের দেশ সবচেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। সড়কে আমাদের দেশে যে পরিমাণ দুর্ঘটনা হয় পাশ্বর্বতী দেশগুলোতে তেমন চোখে পড়েনা। আইন কানুনের কথা নাই বললাম। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান কথা বলা থাকলেও এদেশে স্থান,কাল, মানুষ ভেদে আইনের রং পাল্টাই। এমতাবস্থায় দেশের লোক বসে আছে দুর্ভিক্ষের অপেক্ষায়। অথচ আমি দেখতে পাচ্ছি দেশে অলরেড়ি দুর্ভিক্ষ চলমান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.