চেম্বারে ডেকে নিয়ে এমপির বিরুদ্ধে পেটানোর অভিযোগ, মুখ খুলছেন না আহত অধ্যক্ষ

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের চেম্বারে ডেকে নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী-১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও

সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কারো কাছে মুখ খোলেননি।

তবে অন্য কলেজ অধ্যক্ষদের কাছে তিনি ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি। গোদাগাড়ীর এক কলেজ অধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,

ঈদের আগে ৭ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী রাজশাহী মহানগরীর থিম ওমর প্লাজায় তার ব্যক্তিগত চেম্বারে নির্বাচনী আসনের বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষকে ডেকে পাঠান। গোদাগাড়ীর ওই কলেজ অধ্যক্ষ অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় যেতে পারেননি।

তিনি জানান, ৮ জুলাই সকালে তিনি অন্যদের মাধ্যমে জানতে পারেন যে, সংসদ সদস্যের চেম্বারে ৭ জুলাই রাতে এমপি ফারুক চৌধুরী নিজে হকিস্টিক দিয়ে অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে অন্যদের সামনেই বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেন। নাম-পরিচয় গোপন করে কথা বলা সেই অধ্যক্ষ ৮ জুলাই সেলিম রেজাকে তার বাসায় দেখতে যান।

ওই অধ্যক্ষ বলেন, ‘বাড়িতে যাওয়ার পরে দেখলাম যে ওকে ভালোই মেরেছে। গায়ে দাগও আছে।’ সেলিম রেজা সেদিন তাকে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, তার কলেজের শিক্ষকদের একটি ঘরোয়া আলাপ অডিও রেকর্ড আকারে কে বা কারা এমপি ফারুক চৌধুরীর কাছে দেন। ৭ জুলাই চেম্বারে ডেকে তাকে তাদের ওই আলাপ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান সংসদ সদস্য।

আলাপচারিতার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে পাশে রাখা হকিস্টিক দিয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী তাকে পেটাতে শুরু করেন। পরিচয় গোপন করে তথ্যদাতা ওই অধ্যক্ষ আরও জানান, ৮ জুলাই সেলিম রেজা বিষয়টি তাকে জানালেও পরের দিন তাকে ফোন দিয়ে এ বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার অনুরোধ করেন।

৭ জুলাই সংসদ সদস্যের চেম্বারে ঘটনার সময় উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী উপাধ্যক্ষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ওই অডিও রেকর্ডে এমপি সাহেবের বিরুদ্ধে কোনো কথা ছিল না। ছিল আরেক প্রিন্সিপাল আর তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে কথাবার্তা। এমপি সাহেব সেলিমকে বারবার বলতে থাকে যে, এই আলাপের পর কেন ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলো না। সেলিম কিছুই জানে না বললে এমপি সাহেব আরও ক্ষেপে যান। এরপরই হকিস্টিক তুলে তাকে পেটাতে থাকেন।

ওই উপাধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, সে সময় উপস্থিত শিক্ষকদের কয়েকজনও সংসদ সদস্যের পাশাপাশি অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে মারধর করেন। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেবের এমন আচরণে আমরা অন্যরা হতবাক হয়ে যাই। উনি (এমপি) যেভাবে চিৎকার করে গালিগালাজ করছিলেন আর মারছিলেন, তাতে কেউ এগিয়ে যাওয়ারও সাহস করিনি।’ অবশ্য পরে তাকে উদ্ধার করে সংসদ সদস্যকে তারাই নিরস্ত করেন।

৮ জুলাই বিষয়টি জানার পর থেকে অধ্যক্ষ সেলিম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তবে দিনভর বসিয়ে রেখেও সেদিন কোনো কথা বলেননি তিনি। পরের দিন সময় দিয়েও একই আচরণ করেন। সবশেষ মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগরীতে তার বাসায় গেলেও তিনি দেখা করেননি। এ ব্যাপারে নাম পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ দাবি করেন, সংসদ সদস্যের প্রভাবের কারণে এমনটি হতে পারে। তারা জানান, সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি নিয়ে কোথাও কথা না বলার জন্যও সেলিম রেজাকে অনুরোধ করেছেন বলে তারা শুনেছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে। কিন্তু তিনি মোবাইল ফোন ধরেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.