প্রবাসী স্বামীর লাশ বাড়িতে আসা মাত্রই স্ত্রীর মৃত্যু, ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায়

সংবাদ: মৃত্যুর প্রায় এক সপ্তাহ পর প্রবাসী স্বামীর লাশ বাড়িতে আসা পরক্ষণেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে স্ত্রীর মৃ’ত্যু হয়েছে।

মায়ের মৃ’ত্যু দেখে বড় ছেলেও স্টোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাঁকে হাসপাতালে রেখেই স্বজনেরা বাবার লাশের দাফনের ব্যবস্থা করেন।

একটু সুস্থ হলে ছেলেকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে এনে মাকে কবর দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুন)রাতে ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদ নগর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে।

২২ জুন প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৪৭) মালদ্বীপে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। নানা চেষ্টা-তদবিরের পর গতকাল মঙ্গলবার রাত নয়টায় তাঁর লাশ ফেনীর ফরহাদনগর ইউনিয়নের চর কালিদাস গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।

ফরহাদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, প্রবাস থেকে জামাল উদ্দিনের লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর পর পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হয়।

স্বামীর লাশ দেখে নির্বাক হয়ে যান স্ত্রী খোদেজা বেগম। পাঁচ মিনিট পরই স্ত্রী খোদেজাও (৩৮) হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্ত্রীর লাশ ঘরে রেখে ও বড় ছেলে আজাহারকে হাসপাতালে ভর্তির পর মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে জামালের লাশ দাফন করা হয়।

বুধবার(২৯ জুন) বেলা ১১টায় একই কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে স্ত্রী খোদেজা বেগমকেও কবর দেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের সঙ্গে ছেলে হৃদয় ও মায়ের জানাজায় অংশ নেন।

প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিয়ের কয়েক বছর পর পরিবারের সচ্ছলতার আশায় ১৪ বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান জামাল উদ্দিন। এরই মধ্যে তিন-চারবার ছুটিতে বাড়িতে এসে ঘুরে যান।

তাঁর স্ত্রী খোদেজা বেগম বড় ছেলে আজহার (১৮) এবং ছোট ছেলে হৃদয়কে (১৪) নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। আজহার এইবার উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেছেন। হৃদয় স্থানীয় স্কুলে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

এসময় হৃদয়ের বাবা মাকে দেখতে ছুটে যান ফেনী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকরামুজ্জামান রাজু,সাধারন সম্পাদক বেলাল আহম্মেদ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাদের সাথে যোগ দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক। (প্রবাসীর ছোট ছেলে হৃদয়)

Leave a Reply

Your email address will not be published.