বড় বোনের স্বামীর সাথে পরকীয়া, নানান চরায় উৎরাই পার করে যে ভাবে গড়লেন পরিপূর্ণ সংসার

সংবাদ: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি মেয়ের সংসার জীবনের চড়াই-উৎরাই কিছু কথা। যা পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো:

বিয়ের ১ বছরের মাথায় স্বামীর শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেছি। বেবী হওয়ার পর থেকে শুরু হলো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। আমার সামনে রুমের দরজা লক করে মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতো আমার স্বামী।

কারনে অকারনে আঘাত করতো। কিছু খুঁজে না পেলেই আঘাত করতো। ফ্রিজে ঠান্ডা পানি না থাকলে আঘাত করতো। এই আঘাত নরমাল আঘাত না।

চেয়ার দিয়ে খাটের স্ট্যান্ড দিয়ে সোটা যা পাইতো তা দিয়ে। রিমান্ডের আসামিকে কিভাবে আঘাত করে আমার ধারণা নেই? তবে তার আঘাতের ধরন ছিল আমি যেন ডাকাত।

একবার কপালে চারটা সেলাই করতে হয়েছিলো। তখনও নিজেকে একবারে শেষ করার কখনো মাথায় আসেনি। শুধু ভাবতাম সন্তানকে মানুষ করবো কিভাবে?

এরপর নানান চরায় উৎরাই পার হয়ে সে বেকার হয়ে যায় আমি সংসারের হাল ধরি। ভাইবাতে টিকে আমার জব হয়ে যায়। ২ বছর পর হাজবেন্ডের জন্য জবের ব্যবস্থা করি।

১ বছর পর দেখতেছি ওর এই জবে অনেক কষ্ট হচ্ছে তাই জব ছেড়ে দিতে বলি। সে বাসায় থাকতো আমি জব করতাম। এরই মধ্যে জানতে পারি আমার সৎ বোনের সাথে তার পরকিয়া। সংসার ছেড়ে সন্তান নিয়ে চলে আসলাম এক কাপড়ে। শুরু হলো নতুন সংগ্রাম। সৎ মায়ের সংসারে বোঝা হওয়ার ইচ্ছা নাই। তাই এক বান্ধবীর বাসায় উঠলাম। দুই দিন থাকার পর চিন্তা করলাম কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচিত এক মেয়ের বাসায় একরুম সাবলেট নিলাম। সন্তানকে নিয়ে মেঝেতে ঘুমাইছি। ঠান্ডা লেগে দুজনেই অসুস্থ হয়ে যায়।

একটা মুরগী দিয়ে ১৫ দিন পার করতাম। ছেলেকে ছোট এক পিচ মাংস দিতাম। আমি আলু দিয়ে খাইতাম। ১টা ডিম ভাজি করে চার পিচ করতাম। দুপুরে আর রাতে লেবুর কাজি করে ছোট এক পিচ ডিম দিয়ে খাইছি। এর মধ্যে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনে আমার জব হয়ে যায়। আজ আলহামদুলিল্লাহ আমার ছেলেকে নিয়ে পরিপূর্ণ সংসার। ৩ বেডের একটা ফ্ল্যাট নিয়ে থাকি। কাজ করার জন্য লোক আছে। ভাই, মানুষ শুধু নিজের চাওয়া পাওয়া নিয়ে চিন্তা করার জন্য জন্ম নেয় না। মা বাবা, সন্তান, সংসার সবাই সবার পরিপূরক। মানুষ শুধু নিজের জন্য বাঁচে না। লাখ টাকা ইনকাম করলেও আপনার অভাব থাকবে। আমাদের অফিসের নির্বাহী পরিচালকের বেতন ২ লাখ ৮০ হাজার। ২০ তারিখের পর তার হাতে টাকা থাকে না। অফিস থেকে এডভান্স নেয়। সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ঘুরে দাড়ানোই হলো জীবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.