চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যৌ’ন হয়রানি, গ্রেপ্তার আমির হামজা- বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্য কর তথ্য

সংবাদ: অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের ভাইবার জন্য ঢাকায় নিয়ে আসতো

রিয়েল ফোর্স সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিক সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড। বিজ্ঞাপনে তাদের বলা হতো চাকরির জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই।

কিন্তু পরে প্রত্যেকের কাছ থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে আদায় করা হতো। শুধু এখানেই শেষ নয়, যেসব নারী প্রার্থী চাকরির জন্য আসতেন

তাদের চাকরি দিয়ে নানাভাবে যৌ’ন হয়রানিসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হতো। আর এসব অপকর্মের মূল হোতা ছিল প্রতিষ্ঠানটির মালিক আমির হামজা ওরফে সিরাজী। আজ মঙ্গলবার তাকে রাজধানীর খিলক্ষেত থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

এ সময় তার কাছ থেকে ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ৩টি ওয়াকিটকি চার্জার, ১৬টি বিভিন্ন কালারের সিকিউরিটি গার্ড ইউনিফর্মের ব্যবহার্য প্যান্ট, ২টি ক্যাপ (রিয়েল ফোর্স), ১টি মেটাল ডিটেকটর, ১টি সিগন্যাল লাইট, ৬টি বেল্ট, ২টি মোবাইল, ৩ জোড়া বুট এবং নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মোমেন। তিনি জানান, রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার নামে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আসছে। এই ধরনের আকর্ষণীয় অনলাইন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করছে তারা। মূলত পরস্পর যোগসাজসে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করে এবং সে অনুযায়ী মাসিক বিল কালেকশন করে তার। পরে ২০২০ সালে কোম্পানিটি লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় এবং এসিআই লজিস্টিকের স্বপ্ন শোরুমে সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগের একটি বড় চুক্তির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। তারা মূলত সমাজের বেকার, অল্পশিক্ষিত, দরিদ্র পরিবারগুলোকে চাকরি প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করে আসছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতারক আমির হামজাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জানায়, তারা অনলাইনে কথাবার্তা বলার সময় কোনো ধরনের টাকা-পয়সা লাগবে না বলে জানতে পারে। তাদের অধিকাংশই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, এসব অল্পশিক্ষিত, দরিদ্র, বেকার ও নিম্ন শ্রেণির চাকরি প্রত্যাশী। অল্প টাকা নিয়ে রাজধানীতে এসে লোভনীয় চাকরির অফারে এই চক্রের খপ্পরে পড়ে। পরে চাকরি প্রত্যাশীদের ১২ ঘণ্টা সিকিউরিটি গার্ডের ডিউটি এবং ডে-নাইট হিসেবে একসঙ্গে ডিউটি করানো হলেও ঠিক মতো বেতন দেওয়া হয় না। এর প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীদের ওপর মানসিক নির্যাতন চালানো, প্রশাসনের ভয় দেখানো, জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণের ভয় দেখানোসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হতো। আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান, পারিবারিক কলহ এবং পরিবার থেকে বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনলাইনে লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে তারা রাজধানীতে চলে আসে। চাকরিতে যোগদানের পর এ চক্রের এমডি আমির হামজা মেয়েদের বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ প্রায়ই শ্লীলতাহানির চেষ্টা করত। যারা তার প্রস্তাবে রাজি হয় তাদেরকে অফিসে ডিউটি দেওয়া, বিয়ের প্রলোভন দেখানো এবং নিয়মিত বেতন প্রদান করা হতো। আর যারা প্রস্তাবে রাজি হতো না তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার, মানসিক নির্যাতন, জোর করে আটকে রাখা এবং তাদেরকে দিয়ে অতিরিক্ত ডিউটি করানো হতো। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.