মাদরাসার শিক্ষক হয়ে, মাদরাসার একাধিক ছাত্রকে বলাৎকার- যা জানালেন পুলিশ সুপার

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার “কামারেরহাট জরিনা বেগম হাফিজিয়া মাদরাসায়” একাধিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ঐ মাদরাসার শিক্ষক ওমর ফারুক মুক্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে পাটগ্রাম থানায় অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি।

অভিযুক্ত মুক্তা (২৩) ঐ ইউনিয়নের কিসামত নিজ্জমা (৮ নং ওয়ার্ড) এলাকার আবেদ আলীর ছেলে। সে ঐ মাদরাসার আরবি শিক্ষক এবং মাদরাসা রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালন করে।

এর আগেও সে এক ছাত্রকে বলাৎকার করে হাত-প ধরে সাধারণ ক্ষমা পায়। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ঐ উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামারেরহাট জরিনা

বেগম হাফিজিয়া মাদরাসায় কোরানের হাফেজ শিক্ষায় ভর্তি হয় এক শিক্ষার্থী। ভর্তির পর থেকে শিক্ষক মুক্তার খারাপ নজর পরে শিশুর উপর। এরপর থেকে সে শিশুটির সাথে নানা-নাতি সম্পর্কে গড়ে তোলে।

মাদরাসায় ভালো খাবারের বিনিময়ে নাতির সাথে ধীরেধীরে ঘনিষ্ঠ হয় এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। সর্বশেষ গত ২৮ জুন শিশুটি বলাৎকারের স্বীকার হয়। এরপর ৭ জুলাই ঈদের ছুটিতে শিশুটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের বিষয়টি জানায়।

শিশুটির বাবা বলেন, এরকম ঘটনা কখনোই ক্ষমা করার মতো নয়। আমার ছেলের সাথে জঘন্য কাজ করার জন্য আমি তার উপযুক্ত বিচার চাই। ঐ শিক্ষকের উপযুক্ত বিচার করা না হলে, সে অন্য ছেলের সাথে এরকম ঘটনা ঘটাতেই থাকবে। তাই আর কোনো ছেলের সাথে খারাপ কিছু হওয়ার আগেই এই লম্পট হুজুরকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হোক।

বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানার পর ধামাচাপা দিতে শুরু হয় দেনদরবার। লম্পট মুক্তা ঐ মাদরাসার সভাপতি রফিকুল ইসলামের ভাতিজা হয়। এজন্য মুক্তা মাদরাসার একাধিক ছাত্রকে বলাৎকার করলেও তার বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন কার্যকরী ব্যবস্থা। ফলে ভুক্তভোগীরা ঐ মাদরাসা বড়ই নিরুপায় হয়ে আছে।

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত মাদরাসার শিক্ষক মুক্তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান এলাকাবাসী। কামারেরহাট জরিনা বেগম হাফিজিয়া মাদ্রাসার সভাপতি রফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, আমরা অভিযোগ হাতে পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, আমি এখনো বিষয়টি সম্পর্কে জানিনা তবে যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে তাহলে আমরা তদন্ত করে দেখবো। ঘটনার সত্যতা থাকলে আমরা ব্যবস্থা নেব।

উল্লেখ্য- এর আগে গতবছর একই মাদরাসার আরেক ছাত্র সোলেমানকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দেখিয়ে একাধিকবার বলাৎকার করে লম্পট মুক্তা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্নভাবে ধামাচাপা দিয়ে ভুক্তভোগীর হাত-পা ধরে সাধারণ ক্ষমা পায় মুক্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.