কী হলো পদ্মা সেতুর নাট খোলা সেই যুবকের?

পদ্মা সেতুর নাট-বল্টু খুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকটকের মাধ্যমে ভাইরাল করা সেই যুবক বায়েজিদ তালহা এখন কোথায় আছেন?

তার কি রিমান্ড শেষ হয়েছে? রিমান্ড শেষে তার কি জামিন হলো নাকি জেলে পাঠানো হলো? কী বলেছেন সেই যুবক। আদালতে কী স্বীকারোক্তি দিয়েছেন?

এসব প্রশ্ন সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ নিয়ে ঢাকাটাইমস’র পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেওয়া হয়। কথা হয় তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে।

জানা যায়, বায়েজিদ বর্তমানে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে বন্দি আছেন। তার গ্রেপ্তারের পর এক‌ই ইস্যুতে ভিডিও ধারণ করা আরেক যুবক কায়সার আহম্মেদ ওইদিন পালিয়ে কাতার চলে গেছেন। সূত্র এমনটি নিশ্চিত করেছে।

কারাগারে একজন সাধারণ বন্দিরর মতোই জীবন কাটাচ্ছেন বায়েজিদ। রিমান্ড চলাকালে তিনি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা যায়। তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে এখন। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দেবে পুলিশ।

চলতি বছরের ২৬ জুন পদ্মা সেতুতে এসে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের রেলিংয়ের একটি নাট খুলে ফেলেন বায়েজিদ তালহা। পরে সেটি ভিডিও করে টিকটক অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই দিনই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক শাহীনুল ইসলাম বাদী হয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় মামলা করেন। নাট খোলার ঘটনায় বায়েজিদকে সহযোগিতা করায় মামলায় আরও আসামি করা হয় কায়সার আহম্মেদকেও। এছাড়াও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয় মামলার এজাহারে।

২৭ জুন বায়েজিদ তালহাকে শরীয়তপুর আদালতে তুলে ঘটনা তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে সিআইডি। আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের কাছে কোনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি বায়েজিদ তালহা।

মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের একটি দল। এ ব্যাপারে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, বায়েজিদ তালহাকে সাত দিনের রিমান্ডে নতুন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি এখন শরীয়তপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। আর তার আরেক সহযোগী কায়সার আহম্মেদ ওইদিন দেশের বাইরে পাঠিয়ে গেছেন।

এ ব্যাপারে বায়েজিদ তালহার আইনজীবী শহীদুল ইসলাম বলেছেন, একটি মামলায় জামিন পাওয়া আসামির অধিকার। সেই অধিকার অনুযায়ী আসামির জামিন আবেদন করেছি। কিন্তু আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। আদালত আমাদের আবেদন মূল্যায়ন করেননি।ন্যায়বিচার পেতে আমরা উচ্চ আদালতে যাব। এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের জেলা কারাগারের জেলার মো. দিদারুল আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, বায়েজিদ তালহা শরীয়তপুর কারাগারে আছেন। তবে আমি এক সপ্তাহ আগে ছুটিতে এসেছি। এই মামলায় নতুন কোনও আসামি গ্রেপ্তার হয়ে এসেছে কিনা সেটা নিশ্চিত করে বলতে পারবো না।

গ্রেপ্তার বায়েজিদ তালহা পটুয়াখালী জেলার সদর থানার তেলীখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. আলাউদ্দিনের ছোট ছেলে আর পলাতক কায়সার আহম্মেদের বাড়ি ঢাকার সাভার থানার নালিয়াসুর মুশুরিখোলা গ্রামে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published.