বিএনপির নির্বাচনী ভাবনা

রাজনীতি: ২০২৩ এর মধ্যে বাঁচা মরার লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলটির শীর্ষ নেতারা বলছেন, বিএনপির আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিবে, গণআন্দোলনে।

ক্ষমতাসীনদের অন্তবর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার চ্যালেঞ্জ জানান শীর্ষ নেতারা। অন্যথায় রাজপথেই সমাধান খুঁজে নেবে বিএনপি। আর আন্দোলন দমন ও

বিরোধী ঐক্যকে বিভ্রান্ত করতে সরকার নানান অপকৌশলের আশ্রয় নিতে পারে বলে আশঙ্কা সমমনা দলের নেতাদের। সাম্প্রতিক বন্যা বিএনপিকে জনগণের আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

দলীয়ভাবে সারাদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কাজে সক্রিয় দলের নেতাকর্মীরা। এই জনসম্পৃক্ততা কাজে লাগিয়ে দাবি আদায়ে রাজপথে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে দলটি। দাবি না মানলে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই,

রাজপথেই সমাধান হবে সঙ্কটের। এমন মত বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমাদের দাবি না মানলে তো আমরা আলোচনায় বসবো না, সুতরাং রাজপথেই গড়াবে। পুলিশের লাথি খাওয়া আর কতো?

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন প্রজন্মের যে ৩-৪ কোটি ভোটার তারা তো আর তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছে না। ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না, তো তারা কি চুপ করে থাকবে?

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ দীর্ঘস্থায়ী হলে মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব হয়। মানুষ তখন পরবর্তী বা বিকল্প নেতৃত্ব কেমন হবে তা দেখতে চায়, এসব কারণে সমস্যা হতে পারে। মানুষ পরিবর্তন চায়।

দলটি বলছে, আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে তাদের অধীনে আর কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই ২০২৩ এর মধ্যেই রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলনের লক্ষ্য বিএনপির। তবে বিরোধী শক্তিকে বিভ্রান্ত করতে সরকার নানা কৌশল নিতে পারে বলে শঙ্কা দলীয় নেতাদের।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, চুরির মালের ভাগ পাওয়ার জন্য যারা ঘুরঘুর করতেছে তাদেরকে কিন্তু জনগণ খুব নিবীড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আন্দোলন শানিত করতে সমমনা দলগুলোর সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করছে বিএনপি। যাদের সবাই দলীয় সরকার ও বর্তমান কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে।

তবে কেউ কেউ বলছেন বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে সরকার ও কমিশনের ভূমিকা জানতে চান তারা। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, নতুন কমিশন করতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। কতকগুলো দলীয় লোকজনকে বসিয়ে দিয়েছে আগামী নির্বাচনকে চুরি করার জন্য।

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু আরও বলেন, তারা তাদের মনের কথা বলবে না আর আমাদের মনের কথা শুনতে চায় তারা? আমরা তো বলেই দিয়েছি যে নির্বাচনে যাবো না আমরা। আপনারা আপনাদের মনের কথা বলেন। আমরা যে যাবো না, আমাদের আনার জন্য সরকারের সাথে কী ফয়সালা করেছে সেটা বলুক।

নিজেদের দাবি আদায়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াও প্রায় শেষদিকে বলে জানান বিএনপি নেতারা।এই পুনর্গঠনের কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ । যে ঢাকাকেই আগামীর চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ও কার্যকরী দেখতে চায় বিএনপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.