শ্বশুরের পাঠানো গরু-ছাগলে কুরবানি, কবে বন্ধ হবে ?

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একজন অসুস্থ বাবার করুণ দুঃখের কথা।

মেয়ে বিয়ে দেবার পরে শ্বশুর বাড়ির লোকেদের ট্রাডিশনের আর শেষ নেই। ঈদে গরু কিনে না দিলে নাকি মেয়েকে হাজারও কথা শুনায় জামাই বাড়ির লোকেরা। সেই কথা গুলোই আজ হুবহু তুলে ধরা হলো পাঠকদের উদ্দেশ্যে :-

চট্টগ্রামের ক্যা’ন্সার আক্রান্ত এক বাবার জানিয়েছেন, কোরবানির ঈদে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে এক লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা দিয়ে তিনি গরু কিনে পাঠিয়েছেন।

এইটাই নাকি ওখানকার ট্র্যাডিশন, বিয়ের পর প্রথমবার মেয়ের বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে গরু কিনে পাঠাতে হয়, মেয়ের বাবার সামর্থ্য থাকুক আর

না থাকুক, ধার দেনা করে হলেও মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গরু ছাগল পাঠাতে হবে। এটাই অলিখিত নিয়ম, যুগের পর যুগ এভাবেই চলে আসছে। ক্যা’ন্সারের

পেশেন্ট বৃদ্ধ বাবাকে জিজ্ঞেস করা হল, না পাঠালে কি হবে? বৃদ্ধ বাবা কান্না চেপে বললেন, না পাঠালে আমার মেয়েকে কথা শোনাবে, আমি যতদিন জীবিত আছি আমার মেয়েকে কেউ কথা শোনাতে পারবে না, তাই কষ্ট করে হলেও মেয়ের সুখের জন্য এসেছি। হায়রে সুখ, হায়রে ট্র্যাডিশন।

উল্লেখ্য, কোরবানির মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী হতে পারে। কুরবান শব্দের অর্থ নিকটবর্তী হওয়া, সান্নিধ্য লাভ করা। কুরবানির ঈদের দিনে ঈদ পালন করা হয়ে থাকে, এজন্য একে কুরবানির ঈদ বা ঈদুল আজহা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আল্লাহর নিকট তাদের গোশত এবং রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া। এভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর এজন্য যে, তিনি তোমাদের পথ-প্রদর্শন করেছেন; সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মপরায়ণদেরকে। কোরবানির উদ্দেশ্য মূলত আল্লাহ্‌র নিকটে সান্নিধ্যে লাভের জন্য হলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই নিয়ে নানা ধরনের অপসংস্কৃতির চর্চা রয়েছে। বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলেও এসব অপসংস্কৃতির চর্চা হয়। আমাদের দেশে ‘মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে গরু-ছাগল পাঠানো সংস্কৃতি’ রয়েছে। যা নিয়ে দেশের সুশীল সমাজ নানা ধরনের মতবাদ দিয়ে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.