মানুষ বড্ড নিষ্ঠুর প্রানী, প্রয়োজন ফুরালে ছুঁড়ে ফেলে দেয়- তারাও তাই নিক্ষেপিত হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে,

শংকা ” মল্লিকা দাশ রায়ঃ প্রিয় পাটক পুরো লিখাটা পড়ে নিন হয়ত এ থেকে বাস্তব কিছু শিখতে পারবেনঃ একটা টকটকে লাল গোলাপ দেখতে কার না ভালো লাগে বলো আর তাইতো মন নিবেদনে ভালোবাসার মানুষের হাতে তাকেই তুলে দেওয়ার ইচ্ছা প্রবল ভাবে দেখা দেয়।

কখনও কখনও আবার প্রেয়সীর আলতো খোঁপায় তাকে রেখে ভালোবাসার মানুষটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলার মতো লোভও কিছু কিছু প্রেমিক মনেতে জোয়ার হানে। কিন্তু তারপর!…..যখন ব্যবহারের পর লাল গোলাপটির রঙ ক্রমেই

ফিকে হতে থাকে আর তার সাথে বাড়তি পাওনা জুটে শুষ্কতা, তখন তার স্থান হয়না আর তোমাদের হাতে, খোঁপাতে, ফুলদানিতে এমন কি ঘরেও। অথচ গোলাপটি গাছে থাকলে আরও কিছুদিন হয়তো তার রূপ, গন্ধ, স্নিগ্ধতা ছড়াতে পারতো এই আমাদের নাগরিক জীবনেই।

মানুষ বড্ড নিষ্ঠুর প্রানী, তারা প্রয়োজনে যে কোনো কিছুকে যেনো সে চোখে হারায় আবার প্রয়োজন ফুরালে সেই শুষ্ক গোলাপের মতোই তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় রাস্তার পাশের কোনো এক আস্তাকুড়ে।

অন্যদিকে মানুষ এক ধরণের অদ্ভুত জীব, তারা সহজলভ্য জিনিসের সঠিক মূল্যায়ন করে না কোনো দিনও, যেমন জল ছাড়া প্রাণ বাঁচে না কিন্তু হেলায় নষ্ট করে তা মানুষই, আবার মরূভূমিতে কোনো এক রাজা তার সাম্রাজ্য পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারে প্রাণ বাঁচানোর আশায় এক ফোঁটা জলের জন্যই কারণ সেখানে তা দুষ্প্রাপ্য।

একটা গাছের কথাই ধরা যাক, যতক্ষণ একটা গাছ ফুল ফল দিতে সক্ষম ঠিক ততক্ষণ তার মূল্যায়ণ ভীষণ অথচ সময়ের সাথে সাথে অক্ষমতা

এলে এই মানুষ প্রজাতিই তাকে কেটে ফেলতে কুণ্ঠাবোধ করে না, তারা এটাও ভাবে না যে গাছটি হয়তো ফুল ফল দিচ্ছে না এখন কিন্তু গ্রীষ্মের দাবদাহে ছায়া তো দিচ্ছে অকৃপণতার সাথে।

এই অক্ষম গাছেদের সাথে আজকাল তুলনা করা যায় বৃদ্ধ বাবা মায়ের, সময়ের অপ্রতিরোধ্য নিয়মে তারাও তাই নিক্ষেপিত হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে, এটা কি মনুষ্য জাতির জীবন হতে তার সৃষ্টিকর্তাদের কেটে বাদ দেওয়ার নামান্তরের সম নয়?

ওহে মনুষ্য জাতি! বলতে পারো আর কতোটা নিচে নামলে জীবনে তথাকথিত প্রতিষ্ঠার চরম উচ্চ শিখরে পৌঁছানো যায়! কতোটা স্বার্থপর হলে পরে নিজের অস্তিত্বের সৃষ্টিকর্তাদের খুব যত্ন সহকারে অপমান করা যায়! কতোটা অপমান করলে পরে সন্তান থেকে কুসন্তান হওয়া যায়!

মাঝে মাঝে নিজেকে ভীষণ বেমানান লাগে এই সংসারে, মনে হয় সব স্বার্থান্বেষী কুসন্তানদের একত্রিত করে চরম শিক্ষা দেই কিন্তু পারি না আমি কিছুই করতে আবার পারি না নিজেকেও ক্ষমা করতে, তবে কি আমি মনুষ্য প্রজাতির অংশ নই! আমি কি তবে অবলা প্রাণীর অন্তর্গত কোনো এক প্রজাতি??

Leave a Reply

Your email address will not be published.