বন্যায় অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো কে এই ফারাজ করিম চৌধুরী? জেনে নিন আসল পরিচয়

ফারাজ করিম চৌধুরী! তাকে চিনেন না বা তার ভিডিও দেখেননি এমন মানুষ বর্তমানে বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফারাজ করিম চৌধুরী নামটি বর্তমানে বাংলাদেশে তরুণদের জন্য আদর্শ।

এ যুগে তার মত উদার মনের তরুণ যুবক খুব কমই দেখা যায়। ফারাজ করিম চৌধুরী চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। ফজলে করিম

হলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও মানব দরদী সমাজসেবক। তার পুত্র ফারাজ করিম চৌধুরীর জন্ম হয়েছিল ঢাকায়। জন্ম ঢাকায় হওয়ায় ফারাজ করিম চৌধুরীর পড়াশোনার শুরুটাও ছিল সেখান থেকে।

২০১৩ সালে কিংস কলেজ লন্ডন থেকে আন্ডার গ্রাজুয়েট শেষ করে ২০১৫ সালে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে উচ্চশিক্ষা (মাস্টার্স) অর্জন করে দেশে আসেন এ তরুণ। বিদেশ থেকে উচ্চডিগ্রি সম্পন্ন করার পর দেশের

বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উচ্চপর্যায়ে চাকরির সুযোগ থাকলেও সে পথে পা বাড়াননি ফারাজ। চলে আসেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নিজ বাড়িতে। চারপাশের নানা রকম অনিয়মের বিপরীতে অবিরাম ছুটে চলেছেন এই স্বপ্নবাজ তরুণ।

একের পর এক ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে গোটা দেশেজুড়ে অর্জন করেছেন তুমুল জনপ্রিয়তা। বর্তমানে তিনি ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পেলেও নিজেকে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

ফারাজ করিম ছোটবেলা থেকেই মানবিক ছিলেন। একদিন নিজের অসংখ্য নতুন কাপড় বাসার ওয়ারড্রবে পড়ে থাকতে দেখে সেসব কাপড় নিয়ে ছিন্নমূল শিশুদের মাঝে বিতরণ করে আসেন। এভাবেই ছোট থেকে দারিদ্র্যের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্ম হয়।

ছেলের এসব মানবিক কার্যক্রম দেখে বাবাও মুগ্ধ হয়ে ফারাজ করিমকে এসব কাজে আর্থিক জোগান দিতেন। এমপি ফজলে করিমের সাথে একদিন ১৪ বছর বয়সী এ কিশোর বক্তব্য রাখেন দেশের বাইরে আবুধাবির এক অনুষ্ঠানে। ফারাজ করিমের চিন্তাধারা ছিল অনেকটা ব্যতিক্রম। তবুও সুযোগ হয়ে উঠতো না সেসব কাজে লাগানোর।

তাকে প্রায় দেখা যায় কোনো না কোনো ভালো কাজে। কোথাও অন্যায় হলে তিনি নিজে সেখানে গিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। আর এজন্য ফারাজ করিম অনেক প্রশংসিতও হয়েছেন। ছোটবেলায় পড়াশোনার ফাঁকে মাঝেমধ্যেই বাবার সাথে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যেতেন তিনি।

জনপ্রিয় রাজনীতিবিদের পরিবারের ছেলে হিসেবে সব সময় পেতেন বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। যার কারণে তিনি তার বাবার পরিচয় আড়ালেই রাখতেন। দেখতেন দেশে জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে নানা রকম প্রচলিত প্রথা। এসব দেখে খানিক বিরক্তও হতেন। হঠাৎ একদিন বলেন, আমাদের দেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন কোনো বিশিষ্টজনকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ করা হয়, তখন সেই আয়োজনে তাদের বড়

বড় ছবি দিয়ে ব্যানার সাঁটিয়ে স্বাগত জানানো, ফুল দিয়ে বরণ করার ব্যাপারগুলো আমার বাবার সাথেও ঘটতো। এসব দেখে ফারাজ করিম বিরক্তও হতেন এবং এসবের পরিবর্তন কিভাবে আনা যায় তা নিয়ে চিন্তা করতেন। তিনি বলেন, ছবি দিয়ে পোস্টার নয় বরং কাজের মাধ্যমে মানুষের মনের পোস্টার হয়ে থাকাটাই হলো আসল।

একদিন রাউজান কলেজের একটি অনুষ্ঠানে তিনি তার বাবার ও নিজের ছবি সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন নামিয়ে ফেলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে পড়ালেখার পরিবেশ নষ্ট করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জানা যায়, সেদিনের পর থেকে যেকোনো অনুষ্ঠানে

তাদের আমন্ত্রণ করা হলে ব্যানার দিয়ে স্বাগত জানানো, ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছার প্রদানের নিয়ম-রীতির পরিবর্তন রাউজানে স্থায়ী হয়ে যায়। ফারাজ করিম চৌধুরীর এই বক্তব্য সবার কাছে সমাদৃত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড তুলে ধরে দেশজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ রাজনীতিবিদ ফারাজ করিম চৌধুরী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্যার স্রোতের মধ্যেই বন্যাদুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি এসব ত্রাণ পৌছে দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.