মির্জা ফখরুলের বাসায় ডিম নিক্ষেপকারী ৩ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরার ভাড়া বাসায়ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডিম ছুঁড়ে মারার ঘটনায় বহিষ্কৃত ১৮ জনের মধ্যে

তিনজন নেতার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার দলের সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

একই ঘটনায় বাকি নেতাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর উত্তরের উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম হান্নান মিলন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফ হোসেন এবং দক্ষিণখান থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান,

মো. নাজিম উদ্দিনকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে ইতোপূর্বে বহিষ্কার করা হয়েছিল। নির্দেশক্রমে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকা-১৮ উপ-

নির্বাচনে যুবদল নেতা এস এমন জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এতে অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী কফিল উদ্দিন আহমেদ ও বাহাউদ্দিন সাদী অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি মহাসচিবের উত্তরার ভাড়া বাসায় ডিম ছুঁড়ে মারে।

‘উত্তরায় বিএনপিতে নতুন উত্তেজনা’: এদিকে, স্বজনপ্রীতিসহ বিতর্কিত লোকদের দিয়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করায় ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হককে উত্তরায় অবাঞ্চিত করেছে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি ওয়ার্ড সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট

হট্টগোলের অভিযোগের সঙ্গে জড়িত থাকায় ১৪ জন স্থানীয় নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সব বহিষ্কারকৃত নেতাকর্মী ও তাদের অনুসারীরা আমিনুল হককে অবাঞ্ছিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তারা আরও বলেন, এখন থেকে আমিনুল ঢাকা-১৮ আসনে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা এসএম নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘বহিষ্কার আদেশ ওঠানো ও কমিটি সমন্বয়ের মাধ্যমে পুনর্গঠন না করলে আমিনুলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চলবে। আমাদের কথা পরিষ্কার, উত্তরায় যেখানে আমিনুল সেখানেই প্রতিরোধ।’

তিনি বলেন, আমাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনৈতিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সবাইকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। যতোদিন আমাদের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার না হবে ততোদিন আমিনুল হককে ঢাকা-১৮ আসন এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।

এ বিষয়ে আমিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।তবে, আমিনুল হকের ঘনিষ্ঠ একাধিক নেতা জানান, আমাদের মাথায় ধরে না গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে শুধুমাত্র আমিনুল হককে টার্গেট করে তার বিরুদ্ধে কথা বলা উদ্দেশ্যমূলক। এ নিয়ে আমিনুল হক ন্যূনতম চিন্তিত নন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.