বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা সান্টুর

বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য পদ থেকে সিঙ্গাপুরে বসে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পদত্যাগের

ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। বুধবার (৬ জুলাই) দুপুর ১টার সময় বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে তিনি মুঠোফোনে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন।

এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, বরিশাল জেলা (দঃ) বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা হওয়ার

পর থেকেই আহবায়ক মুজিবুর রহমান নান্টু ও সদস্য সচিব আকতার হোসেন মেবুল উজিরপুর-বানারীপাড়া তথা বরিশাল-২ আসনের বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে কিছু আওয়ামী ঘরানার লোক সামনে আনার পাঁয়তারা করছেন।

ফলে এখানকার সুসংগঠিত ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী বিএনপিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। মুজিবুর রহমান নান্টুর বর্তমান কর্মকান্ডে মনে হয় তিনি বরিশাল জেলা (দঃ)

বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতির পদে আসীন হবার জন্য দলের মূল নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দ এমন লোকদের কমিটিতে আনতে চান। যারা ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষ প্রতীকের (বিএনপির) বিরোধিতা করেছিলো এমন লোকদেরকেই উজিরপুর-বানারীপাড়া বিএনপির নেতৃত্বে আনতে চাচ্ছেন তিনি। যারা ধান মোরগ দিয়ে খাওয়াবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পথসভায় ওই সময়ে বলতেন বর্তমানে তারাই বরিশাল জেলা (দঃ) বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দ।

বরিশাল জেলা (দঃ) বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হবার সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিলো ১ মাসের মধ্যে এর আওতাধীন সকল ইউনিটের কমিটি গঠন করার। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও তা করতে পারেননি এ কমিটি। এছাড়াও মুজিবুর রহমান নান্টু আহবায়ক ও সদস্য সচিব আকতার হোসেন মেবুল’র কমিটি ঘোষণা হবার পর থেকে আহবায়ক মুজিবুর রহমান নান্টু তার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন বহুবার, যার দালিলিক প্রমাণও নাকি এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর কাছে রয়েছে বলে তিনি ভিডিও কনফারেন্সে জানান।

এদিকে জানা গেছে, গত ৩রা জুলাই বিকেলে বানারীপাড়া পৌর শাখা বিএনপির কর্মী সভার পূর্ব নির্ধারিত সময় ছিলো। এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর ভাষ্যমতে এ তারিখটিও দেয়ার আগে তার সাথে জেলা কমিটি কোন প্রকার আলোচনা করেননি। পৌর বিএনপির সভাপতি আহসান কবির নান্না হাওলাদার ২রা জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায়, ৩রা জুলাই তাকে বানারীপাড়া হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেয়া হয়। বিধায় ওই সময়ে বানারীপাড়া থেকে জেলা কমিটির কাছে আবেদন করা হয়েছিলো কর্মী সভার তারিখ পরিবর্তনের। তবে সেটা করতে রাজি ছিলেন না বরিশাল জেলা (দঃ) বিএনপি, তারা ওইদিন (৩ জুলাই) বানারীপাড়ায় এসে উপস্থিত হন। তারা যখন এসেছিলেন ওই সময়ে বানারীপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সালামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আহত পৌর বিএনপির সভাপতি নান্না হাওলাদারের চিকিৎসায় বরিশালে ছিলেন। উল্লেখ্য, বরিশাল জেলা (দঃ) বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য পদে এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুকে অন্তর্ভুক্ত করাকালীন তিনি বারণ করেছিলেন বলেও জানান ভিডিও কনফারেন্সে। উপরোক্ত সবকিছু মিলিয়ে তিনি (এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু) বরিশাল জেলা (দঃ) বিএনপির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *