মোটরসাইকেল নিয়ে বিব্রত পুলিশ, অবশেষে যা জানা গেল

ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে মোটরসাইকেল বন্ধের নির্দেশনায় বিব্রতকর অবস্থায় আছে পুলিশ।

গত মঙ্গল ও বুধবার পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচোনা করা হয়।

সভায় কর্মকর্তারা বলছিলেন, ঈদে উপলক্ষ্যে মহাসড়কে মোটরসাইকেল বন্ধের ব্যাপারে পুলিশের সাথে আলোচোনা করা হয়নি। যদি এই বিধিনিষেধ

ব্যাস্তবায়ন করতে যায় তাহলে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল তল্লাশি করতে হবে, তা ভয়াবহ যানজটের কারণ হতে পারে। এ সময় পুলিশ মহাপরিদর্শক

(আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, কোরবানির পশু পরিবহনে রাস্তাঘাটে কোথাও কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। বুধবার (৬ জুলাই) রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে দুই দিনব্যাপী এই ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত রবিবার বিকালে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জরুরি একটি সভা শেষে সড়ক পরিবহন সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া ঈদের আগে পরে মোট ৭ দিন এক জেলায় থেকে অন্য জেলায় মোটসাইকেল নিয়ে দ্রমন করতে পারবেন না। এ সময় দেশের সব মহাসড়কে রাইড শেয়ারিং সার্ভিসও বন্ধ থাকবে। ঢাকা, বরিশাল বা চট্টগ্রামের রাইড শেয়ারিং বাইকের যেটি যে জেলার মোটরসাইকেল, সেটি সেই জেলাতেই চালাতে হবে বলে তিনি জানান। তবে যৌক্তিক ও অনিবার্য প্রয়োজনে পুলিশের অনুমতি নিয়ে মোটরসাইকেল চালানো যাবে বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সুত্রে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তারা অপরাধ পর্যালোচনা সভায় বলেছিলেন, মোটরসাইকেলের মধ্যে কোনটি ব্যাক্তিগত, কোনটি রাইড শেয়ারিং সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য কোনো অ্যাপস তৈরি করা হয়নি। আবার যৌক্তিক ও অনিবার্য কারণ চিহ্নিত করার বিষয়েও কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করে এমন নির্দেশনা সত্যি খুব বিব্রতকর হবে চালক ও পুলিশ উভয়ের জন্য। এর পরও আইজিপি বিআরটিএ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে অপারেশন চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের উদাসীনতা ও সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উঠে আসে অপরাধ সভায়। কর্মকর্তারা বলেন, অনেক আসামি গ্রেফতারের পর তার অতীত কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে বলে অন্য জেলা কিংবা অন্য থানাতেও সে ডাকাতি করেছে। তখন ওই জেলা কিংবা থানায় খোঁজ করলে এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় না।

এ সময় বেনজীর আহমেদ আরও বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও কারণ ছাড়া যানবাহন থামানো বা চেক করা যাবেনা। তিনি বলেন, মহাসড়কে করিমন, নসিমন, ভটভটি ইত্যাদি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা পালন করতে হবে। পুলিশপ্রধান বলেন, মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে তদারকি বাড়াতে হবে। মামলার তদন্ত দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে। তদন্তের মান বাড়াতে হবে। নিবিড় তদারকির মাধ্যমে মামলা তদন্তের জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশের অব্যবহৃত জমিতে ফসল উৎপাদন এবং জলাশয়ে মাছ চাষ করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান আইজিপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.