বিএনপির তিন ধাপে সহযোগিতা

তিন ধাপে সহযোগিতা নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে এনে খাবার সরবরাহ,

পুনর্বাসনের কাজ ও চিকিৎসাসেবাকে প্রাধান্য দিচ্ছে দলটি। এ পর্যন্ত সাড়ে ১০ লাখ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কর্মকাণ্ডের জন্য কেন্দ্রীয় ত্রাণ তদারকি কমিটির পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ত্রাণ সংগ্রহ

ও মনিটরিং সেল গঠন করেছে। এছাড়া একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় সব এমপি প্রার্থীর কাছ থেকে নগদ অর্থসহ ত্রাণ সহায়তা চেয়ে চিঠিও দিয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।

জানতে চাইলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমরা তিন পর্যায়ে কাজ করছি। প্রথমত, পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে এনে তাদের খাবার সরবরাহ করা।

এরপর বন্যার পানি নেমে গেলে তাদের পুনর্বাসনের কাজ এবং বন্যাকবলিত যেসব এলাকায় মানুষজনের রোগবালাই হবে, তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া। আমরা একটা ‘কম্প্রিহেনসিভ’ প্রোগ্রাম নিয়েছি। এছাড়া কৃষকদের সহযোগিতা, বীজতলা সরবরাহ প্রভৃতির মাধ্যমে বন্যার্তদের সহযোগিতা করছি।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ত্রাণ দিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছেন। বিএনপিসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ছাত্রদলসহ সব অঙ্গসংগঠন এখন বন্যার্তদের পাশে রয়েছে।

বিএনপির দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ত্রাণ তদারকির কমিটি করা হয়েছে। এতে সিলেট জেলার দায়িত্বে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্যদেরও বিভিন্ন জেলার ত্রাণ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফেনীতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কিশোরগঞ্জে মির্জা আব্বাস,

সুনামগঞ্জে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামালপুরে নজরুল ইসলাম খান, নেত্রকোনায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিলেট মহানগরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়া কেন্দ্রীয় ত্রাণ সংগ্রহ উপকমিটি এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ে ত্রাণ সংগ্রহ ও মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সাংগঠনিক জেলা শাখার দুই শীর্ষ নেতা বরাবর ত্রাণ কর্মকাণ্ডের জন্য সাহায্য ও অনুদান চেয়ে তা সংগ্রহপূর্বক কেন্দ্রীয় ত্রাণ সহায়তাকেন্দ্র চেয়ারপারসন কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সিলেট জেলা ও মহানগর, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ জেলাসহ বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে সাড়ে ১০ লাখ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত অনুদান হিসাবে অন্তত আড়াই কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে। এ প্রক্রিয়া চলমান। আমরা একদিকে সংগ্রহ করছি, আবার সঙ্গে সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী বন্যাদুর্গত এলাকায় পাঠিয়ে দিচ্ছি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিনিয়ত এই ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির পাশাপাশি যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল, মৎস্যজীবী দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। ড্যাব এবং নারী ও শিশু অধিকার ফোরামও বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছে। এছাড়াও ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে নেত্রকোনায় ১৫শ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জে ১ হাজার ৭শ পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ত্রাণ তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কৃষি পুনর্বাসনের কাজ করছি। আমাদের টার্গেট হলো ৫ হাজার কৃষকের মধ্যে দুই কেজি করে রোপা আমন ধানের (গোল্ডেন) বীজ দেব। ইতোমধ্যে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জে এ কার্যক্রম শুরু করেছি।

পরে আরও ৫ হাজার কৃষকের মাঝে শাকসবজির বীজ দেব। জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। জেলার নেতারা প্রতিদিন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে সিলেট জেলা ও মহানগরে আমরা ১১শ বস্তা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি। প্রতিটিতে ২০ কেজি করে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ছিল। শিগগিরই কুড়িগ্রামেও যাব। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জে কেন্দ্রীয়ভাবে আমরা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। হাওড়ের ৫শ ভাসমান মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত ৮০ হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম অব্যাহতভাবে চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.