শ্রীলঙ্কার মতো আমাদের শুধু রাস্তায় নামা বাকি, লোডশেডিং নিয়ে মুখ খুললেন খন্দকার মোশাররফ

সংবাদ: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে গেছে।

আমাদের শুধু রাস্তায় নামা বাকি। শ্রীলঙ্কার জনগণের মতো আমরা শুধু রাস্তায় নামিনি। দেশে বাকি সবই ঘটে গেছে।বুধবার (৬ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স

ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা যে লোডশেডিংকে

মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেছিলেন, আজকে কেন লোডশেডিং হচ্ছে। এখন যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে, তা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। এভাবে চলতে চলতে একদিন দেখবেন,

দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে গেছে। এটা সরকারি লোকেরাও এখন একটু একটু বলা শুরু করছে। তারা বলছে, শ্রীলঙ্কা হতেও পারে। কিন্তু আমি বলছি, দেশ শ্রীলঙ্কা হয়েই গেছে। কোথায় বাকি আছে। স্বাধীনতা নেই, অর্থনীতির অবস্থা নাজুক।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, এখানে একজন বলেছেন- আমরা আন্দোলন করলেও সরকার যাবে, না করলেও যাবে। যদি সেভাবেই যায়, তাহলে জাতি আরেকটা অন্ধকারে প্রবেশ করবে। আর রাস্তায় নেমে আমরা যদি এদেরকে বাধ্য করতে পারি। তাহলে জনতার কাছে ক্ষমতা আসবে। তিনি আরও বলেন, এটা সবার দাবি, এদেশের মানুষ অতি দ্রুত পরিবর্তন চায়। তারা আর এই সরকারকে দেখতে চায় না। কোনো স্বৈরাচারী সরকার কখনো নিজ থেকে সরে যায় না। জনগণ চায় পরিবর্তন। জনগণ চায়, এই সরকার অতি দ্রুত তার পদ থেকে পদত্যাগ করুক বা আমরা তাদের সরিয়ে দেই। সেটা করতে হলে, আমাদের সবাইকে অবশ্যই রাস্তায় নামতে হবে। ‘সরকার তার শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে আমাদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করবে। মান্না সাহেব ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলাদেশ যেমন বীরের দেশ, আবার এ দেশে অনেক মীর জাফরও আছে। অতএব আজকে বীরেরা সামনে এগিয়ে আসুক। মীর জাফররা যেন সামনে আসতে না পারে।’

‘আমরা এদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চাই। আমরা এদেশে অতি দ্রুত সরকারকে হটাতে চাই। এদেশের জনগণ একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। যে নির্বাচনে মানুষ নিজের হাতে নিজের ভোট দিতে পারবে এবং এর মাধ্যমে জনগণের নেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।’ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকে বাংলাদেশ বন্যায় ভাসছে। কেন হচ্ছে? আমাদের পাশের দেশগুলোতে যে নদী আছে, প্রত্যেকটা নদীর মুখে বাঁধ আছে। আজকে যে সরকার তারা তাদের নতজানু নীতির কারণে এর প্রতিবাদ করতে পারে না। খরা মৌসুমে তারা পানি আটকে রাখে, বর্ষার মৌসুমে পানি ছেড়ে দেয়। এই নতজানু নীতি না থাকলে ভারতের সঙ্গে কথা বলে এর সমাধান করতে পারতো। ২০১১ সালের ৬ জুলাই সংসদ ভবনের সামনে তৎকালীন বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুকসহ বিএনপির জনপ্রতিনিধিদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আজকের এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয়তাবাদী নবীন দলের সভাপতি হুমায়ূন আহমেদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল রানা প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.