মেয়ের মৃত্যুর সময় বাবাকে শেষ দেখা করতে দেয়নি মা- গল্পটি পড়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারবেন না

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভালোবাসার গল্প ব্যাপক পরিমাণে ভাইরাল হয়েছে যা সত্যিই হৃদয় বিদায়ক এবং চোখে পানি ধরে রাখার মত নয়।

সৎ মায়ের কারণে কিভাবে সন্তানের সাথে বাবা মেয়ের ভালোবাসার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায় তা যে ভাবে ব্যাখ্যা করেছে তা সত্যিই কলিজাতে দাগ কাটে। এই মর্মান্তিক দুঃখকথা পাঠকদের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো:-

আমি যাকে ভালোবাসি তার সৎ মা ছিল। তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করার পর সে নানীর বাসায় উঠে,ওখানেই বড় হয়!হোস্টেলে থাকতো;

কিন্তু তাকে বাসা থেকে ঠিকমতো টাকা দিত না! অনেক খোঁজাখুঁজির পর টাকা পেত,কিছুদিন পর সেনিজেই কোচিং টিউশন করিয়ে নিজের খরচ নিজে চালাতো।

সৎ মা আসার পর বাবাটাও চেঞ্জ টাকা দিতনা খবর নিত না। ওর সব কিছু ছিলাম আমি ওর নানি আর ওর বন্ধুরা সবাই ওকে খুবই হেল্প করতো।
আমাদের গল্প:

সালটা ছিল ২০১৭ আমাদের দেখা হয়েছিল আমরা খুব ভালো বন্ধু ছিলাম। পড়ে দুজন দুজনকে ভালোবেসেছিলাম, ও আমাকে খুব ভালোবাসত। আমি অনেকটা বাচ্চার মত ছিলাম অনেক কিছু বুঝতামনা সে আমাকে খুব প্রোটেক্ট করতো অনেক বেশি লাভিং ক্যারিং ছিল অনেক বেশি ভালোবাসতো বলে বুঝাতে পারবনা। আমাদের অনেক রাগ ঝগড়া হতো আমি অল্পতে বেশি জিদ্দি ছিলাম। ওর ও রাগ হতো কিন্তু ভালো বাসাটাও অনেক বেশি ছিল যার জন্য সম্পর্ক কোনো দরনের বিচ্ছেদ হয়নি কখনো। ওর কোনো জব ছিলনা আমাকে বাড়ি থেকে বিয়ে দিয়ে দিবে ওর কোনো জব নেই সব সময় খুব টেনশনে থাকতো আমাকে হারানোর খুব ভয় ছিল ওর। এভাবে আমাদের ৫বছর পার হয়ে যায়। খুব কস্ট করে আমরা ৫বছর পার করি! আমি ওর জন্যে বাড়ি থেকে টাইম নিয়ে ছিলাম পড়ে বিয়ে করে নিবো বলে বাড়িতে তো বলতে পারিনি। কেও আছে সেইজন্যে বলেছিলাম আর কয়টা দিন পর বিয়ে করে নিবো কারন ওর কিছু না কিছু জব হয়েই জাবে। এখন ও একটা সরকারি জব এক্সামে পাস করেছে খুব খুশি আমরা খুব খুশি ও আরো বড় বড় জব এর জন্য পড়া শুনা করতো। সব সময় বলতো তুমি অনকে কিছু ডিজার্ভ করো তোমাকে তুমি পাওয়ার মত লাইফ তা গিফট করবো। অনেক কস্ট করতো মানে ওর লাইফ টাই আমি ছিলাম কেও ছিলনা ওকে বুঝার মত।

কোথায় আছে না যার মা নেই তার কিছু নেই! ওর একটা অভ্যাস ছিল যেখানেই যাবে আমার জন্য কিছুনা কিছু কিনে আনবেই। এই লাস্ট ঈদে আমার জন্য শাড়ি কিনে এনেছে মুম্বাই থেকে। কিন্তু দিতে পারেনি ওর নানীর কাছে রাখা আসে, কারন তার পর থেকেই মানে মুম্বাই থেকে আসার পর ওর জর হতো এইভাবে প্রত্যেক দিন জর হতো পড়ে ডাক্তার এর কাছে গিয়েছিল কোনো কিছুই দরা পড়েনি কি হয়েছে প্রায় ১মাস এইভাবেই কাটছিল আমি অনেক টেনশনে পড়েছিলাম সে সব সময় বলতো কিছু হবেনা এত সহজে তোমাকে ছেড়ে যাবনা বুজলে এখনো তোমাকে mature বানাতে পারিনি এখনি ছেড়ে যাবনা। কিন্তু ওর বেয়ার খুব বেশি হয়ে যাচ্ছিলো ও বুঝতে পেরেছিল কিছু হবে,, ওর কাছে টাকাও ছিলনা বেশি ট্রিটমেন্ট করার। ও বুঝে গেছিলো কিছু হয়ে যাবে ওর!

তার জন্যে কাওকে বলেনি ওর পেটে কিছু হয়েছিলো কাওকে বলনি এত টাকা কে দিবে মামা ওরা ট্রিটমেন্টর জন্য অলরেডি অনেক টাকা খরচ করেছে সেটা ভেবেই আর বলেনি আমকেও বলেনি টাকা লাগবে, শুধু আমাকে বলেছে তুমি দোয়া করো আমি ঠিক হয়ে যাব। আমি বলতে পারছিনা সে আমাকে সব বুঝিয়ে দিয়েছে ওর কথায় যে ও বেশি দিন আর বেঁচে থাকবেনা। আমি ভেবেছি বেমারে মানুষ ইমোশনাল হয় তার জন্যে হয়তো আমাকে এত কিছু বলতেছে যে ভালো ভাবে থাকবে আমি না থাকলেও জানি মন খারাপ না করি! আমি কিন্তু দেখতে পারবনা আমি যেনো হাসি মুখটা দেখি তোমার। আমি বলতাম হয়েছে এমন ভাবে বলছো যেন ম’রে যাবে, আমি জানতাম না যে সেটাই সত্যি হবে, একদিন খুব বেশি হয়ে গেলো বেমার ওকে হসপিটাল ভর্তি করলো সেই রাত টাই ওর জীবনের শেষ রাত ছিল আর আমাদের শেষ। ওর বাবা কে খবর দিয়া হয়েছিলো সৎ মা তা-ও আসতে দেয়নি বাবা থাকতেও সে অনাথ হয়ে জীবন কাটাতো” যা করেছে সব আমার জন্য আমি সব সময় ওর সাথে ছিলাম আর আজ আমাকেও ছেড়ে চলে গেলো” টাকার জন্য হেরে গেলো ওর জীবন আর আমাদের সব স্বপ্ন। সে আমাকে ছেড়ে চলে গেলো সব সময় ভয় পেত আমি ছেড়ে যাব বলে বিয়ে দিয়ে দিবে বাড়ি থেকে কিন্তু সেই নিজেই আমাকে ছেড়ে চলে গেলো নিয়তি আর একজন বাবা এত নিষ্টুর কিভাবে হতে পারে ? আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published.