হ্যাঁ, আমি দখল করেছি, অন্যায় হলে মেনে নিতেও প্রস্তুত আছি: আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরের সর্বোচ্চ ব্যক্তিরা দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া, কানাডা যায়।

আমি বাবা ও মায়ের টানে এসেছি মানুষকে সেবা করতে। দেশে মনে হয় না এমন কোনো জনপ্রতিনিধি আছেন যারা এত যুদ্ধ করে শহরে টিকে আছে।

গতকাল সোমবার (০৪ জুলাই) সন্ধ্যায় ‘পরিবেশ দূষণে বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জ: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গণশুনানিতে তিনি এসব কথা বলেন৷ তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু মামলা আর মামলার সম্মুখীন।

রেল তো আমাকে একদমই পছন্দ করে না। আমি নাকি তাদের কাজে শুধু বাধা দিই। আমি কাউকে বাধা দিতে চাই না। কিন্তু আমাদের নারায়ণগঞ্জ আমাদের। আমি রেলের জায়গা দখল করেছি বলেছে, হ্যাঁ, আমি দখল করেছি এবং বিশাল একটি মাঠ করেছি। অন্যায় হলে মেনে নিতে প্রস্তুত আছি।

আমরা অনেকগুলো খাল উদ্ধার করেছি। বাবুরাইল খালের যে অবস্থা ছিল আমরা ভাবিনি। খালটা একটু ছোট হয়েছে কারণ রাস্তা প্রশস্ত করেছি, আরেক পাশে ওয়াকওয়ে করে দিয়েছি। আমরা ভাবিনি খালটা এত সুন্দর হবে। আমরা অপরাজিতা প্রজেক্টে ৫টা বিল্ডিং করে দিতে চেয়েছিলাম।

২০১১ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এত প্রতিকূলতার মাঝেও এ শহরের মানুষ আমার পাশে এসে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে আমি আত্মবিশ্বাস পাই। কেউ কেউ বলেছিল বিল্ডিং করতে হবে। পরবর্তীতে আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম ২০০ কোটি নয় ৫০০ কোটি টাকা লাগলেও শহরের মানুষকে আমি বিশুদ্ধ বাতাস খাওয়াবো।

আজ এটা করেছি এবং আরও বড় কাজে হাত দিয়েছি। আপনারা জানেন শেখ রাসেল পার্ক করতে গিয়ে আমাদের ঠিকাদাররা জেলে গিয়েছে। এখানে একটা বস্তি ছিল। যেখান থেকে আগে টাকা দিয়ে লোক নিয়ে আসা হত শহর কাঁপিয়ে মিছিল করা হত। আমি তাদের অবজ্ঞা করছি না। আমি বস্তি উচ্ছেদ করেছি সত্য। তবে শহরবসীকে প্রাধান্য দিয়ে এটা করেছি।

আইভী আরো বলেন, ‘আদমজী খাল খনন করতে গিয়েও বাধা পেয়েছি। পরবর্তীতে মাননীয় মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছ থেকে রেজুলেশন নিয়ে কাজ করেছি। মাঠ রক্ষা করতে কেন মামলা করতে হবে। কেন খাল পুকুর রক্ষা করতে গিয়ে মামলা করতে হবে। হাজীগঞ্জ দূর্গ আমাদের ঐতিহ্য। সেখানে মামলা করেছি। আমি জানি অনেক শিল্পপতি আঘাত পেয়েছেন। তবে এ শহরে শুধু শিল্পপতিরা বসবাস করে না। মানুষও বসবাস করে।

আমরা সব মিলিয়ে বসবাস করছি। আমরা কারখানার ধোঁয়া নিয়ে বাঁচতে চাই না। আমাদের শিক্ষামন্ত্রী নিজে বলেছিল মাঠ রাখতে তবে পাওয়ারফুল নেতা তিনি বড় ঠিকাদার তিনি মাঠেই বিল্ডিং করল। সরকারি প্রতিষ্ঠানই যদি এমন বাধার সম্মুখীন হয় তাহলে কী বলব।

তিনি বলেন, আমরা খাসের জমির জন্য একশ বার বলতে হয়। কিন্তু কর্ণফুলী, আকিজ জায়গা লিজ নিয়ে বসে আছে। জমি তাদের কাছে বিক্রিও করা হয়েছে। কি কারনে। ২০০৯ সালের হাইকোর্টের রায়ে নদীর পারের জায়গা সিটি করপোরেশনকে দেয়ার কথা বলা হয়েছে শর্ত সাপেক্ষে।

টিভিতে নিউজ হলো আইভী ভূমিদস্যু। এটা আমার জনগণ বুঝবে। শীতলক্ষ্যাকে প্রোটেক্ট করতে গিয়ে আমাদের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রও আছে। তাদের দাওয়াত দিয়ে এনে কথা বলেছি। আমি বলেছি আমি নদী রক্ষা করবোই। আমি যদি বেঁচে থাকি এ কাজটি করবোই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *