বিএনপি যতদিন আসবেনা, ততদিন ডাকতেই থাকবো। এইটাই আমাদের দায়িত্ব

এইটাই আমাদের দায়িত্ব। সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য বিএনপি যতদিন আসবে না, ততদিন ডাকবো। আমরা ডাকতেই থাকবো বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।

সোমবার (৪ জুলাই) এ কথা বলেন তিনি। বিএনপিকে সংলাপে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যতদিন তারা না আসবেন, ততদিন ডাকবো।

আমরা ডাকতেই থাকবো। আহ্বান জানাবো। তবে হ্যা আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। তিনি বলেন, সংবিধান নির্বাচন করার অধিকার দিয়েছে। এটা সাংবিধানিক অধিকার।

রাজনৈতিক দল হলেই যে তাকে অবশ্যই নির্বাচন করতে হবে এটি বলা নাই। তবে একটি কথা আছে- পরপর দুইবার যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তাহলে কমিশন তার নিবন্ধন বাতিল করে দিতে পারবে। পরপর দুইবার ধারাবাহিকভাবে।

একটি করে মাঝখানে বাদ দিয়ে আবার আরেকটি করলো তাহলে কিন্তু হবে না। এটি হলো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু নির্বাচনে কে আসবে, কে আসবে না, এটি তো রাজনৈতিক কৌশল। আমরা চাই সবাই নির্বাচনে আসুক।

তিনি আরও বলেন, আপনার যদি কোনো অভিযোগ থাকে, আপনি যদি মনে করেন আপনি ঠিক আছেন, অন্যরা ঠিক নাই। জনগণকেই সেটি নির্ধারণ করার সুযোগ দেন। আপনি যদি নির্বাচনে না আসেন, তাহলে আপনার কথাই ঠিক, নাকি ঠিক না। এটি তো জনগণ নির্ধারণ করতে পারছে না।

আপনি হয়তো বলতেছেন আপনি ঠিক, অন্যে ঠিক নাই। সেটি বিচার করার দায়িত্ব কার? সেটি বিচার করার দায়িত্ব তো জনগণের, ভোটারের। ভোটারকে তো আপনি সেই সুযোগ দিচ্ছেন না। ভোটারদেরকে সেই সুযোগ না দিয়ে যদি বলেন আমি ঠিক, আর উনরা ঠিক না। তাহলে আপনার কথা তো বাজারে বেশিদিন টিকবে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদের পর শুরু করতে পারবো কিনা সেটি বলতে পারছি না। তবে ঈদের পর ঠিক করা হবে কবে থেকে সংলাপ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করার যেকোনো পরামর্শ দিতে পারেন। অর্থাৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনা,

প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট বা ইভিএম, ব্যালট অথবা কমিশনের আরো কি কি দায়িত্বপালন করা উচিৎ বা কমিশন কিভাবে দায়িত্ব পালন করতে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে বলে তারা মনে করেন। এ সমস্ত ব্যাপারে উনারা খোলামেলা আলোচনা করতে পারবেন এবং আমরা সেগুলো অত্যন্ত পজেটিভলি নেবো। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা দরকার সেসব পরামর্শ নেওয়া হবে।

দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নাকি আগে রোডম্যাপ তৈরি করে সংলাপে বসবেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খসড়াটা করে ফেলেছি, এটি নিয়ে যখন উনাদের সঙ্গে বসবো। আমরা উনাদের কথা শুনবো। যদি তাদের মতামতের সাথে মিলে যায়, তখন আমরা বলবো আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপনাদের সঙ্গে মিলে গেছে। যেটি মিলবে না সেটির সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করে উনারা আমাদেরকে কনভিনজড করার চেষ্টা করবে। উনারা যে প্রস্তাব দেবেন সেটি যে আমরা মেনে নেবো সেটি নাও হতে পারে। তখন আমরা তাদেরকে বলবো এইটা করলে এই সমস্যা আছে, এই এই সুবিধা আছে।

ঈদের পর যে সংলাপ শুরু হবে। এটি শেষ হলে আবারও কি দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি যে ফাইনাল সংলাপ তা কিন্তু নয়। নির্বাচনের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত, এমন কি নির্বাচনের আগেরদিন পর্যন্ত সংলাপ হতে পারে প্রয়োজনে। কোনো রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনের আগেরদিন কোনো একটি প্রস্তাব রাখে যে, এই কাজটি করলে নির্বাচনটি সুষ্ঠু হবে বলে আমরা মনে করি। সেদিনও ওয়েলকাম করবো। একবার নয়, এটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে থাকবে। সবসময় দরজা খোলা থাকবে। এমন কি শুধু আমাদের ইনভাইটেশন না, কোনো রাজনৈতিক দল যদি মনে করে যে, আমরা আপনাদের সাথে দেখা করে কিছু মতামত রাখতে চাই। তাহলেও আমার তাদের মতামতগুলো নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.